বাস্তু সংশোধন বা কারেকশন
 
তিনি প্রশ্ন করলেন “কতটা”। আমি উত্তর দিলাম ১:৩। ক্লায়েন্ট ভদ্র লোক বললেন আমি এখনই ১:৬ লাভ করছি। ১:১০ এর কমে আমার লাভ নেই। আমি তখন বললাম স্যার ১:৩ অথবা ১:৪ এর বেশী বাস্তু কারেকশন করে আমি আপনাকে এর বেশী কিছু দিতে পারবনা। কেননা আমি মনে করি এর চেয়ে বেশি লাভ করা অনৈতিক। কিছু না দিয়ে কতটা নেওয়া যায়, এর একটা নীতিগত সীমা থাকা দরকার। এক বৎসরের মধ্যে এর মূল্য আপনাকে দিতে হবে। আমি আর বাস্তু কারেকশন করিনি। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে ভদ্র লোক সি.আই.পি ব্যবসায়ী। কেয়ার টেকার সরকার আসার পর বর্তমানে কারাগারে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা আমার সাথে তিনি জেলে যাওয়ার পর যোগাযোগ করেছেন কিন্তু আমি/আমরা অর্থাৎ রাজেশ্বরী কনসাল্টেশন লিঃ কোন প্রকার প্রথাসিদ্ধ রীতি বিরুদ্ধ ও অনৈতিক ক্রীয়া কর্ম করিনা। তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিফল মনোরথে ফিরে যেতে হলো।

দ্বিতীয় উদাহরণঃ একটি ছেলের বাবা, মা এলেন আমার চেম্বারে। এসে বললেন তাঁদের সন্তান যেন এইচ. এস. সি পরীক্ষায় এচঅ ৫ পেতে পারে তদানুযায়ী ছেলের পড়ার টেবিল, ছেলের রুম কারেকশন করতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম- ছেলের কি কোষ্ঠী বা ঠিকুজী আছে? পিতা-মাতা সঙ্গে করে কোষ্ঠী ও নিয়ে এসেছেন যা আমার লিখা ১৯৯৭ সালে। আমি শুধু কোষ্ঠীর ছক থেকে জন্মকালীন গ্রহের অবস্থান আমার রাখা কাগজে তুলে নিয়ে কোষ্ঠী ফিরত দিলেম। ছেলেটির বিদ্যাস্থানের অধিপতী গ্রহ বৃহস্পতি মকরে নীচস্থ্য অতীব অশুভ। সিংহলগ্নে রবি ও শনি বসে আছে কেতরি নক্ষত্রে এবং জন্ম সময়ে কেতু বৃষে, রাহু বৃশ্চিকে বুধ সহযোগে। লগ্নে শনি সিংহ রাশিতে চরম অশুভ, লগ্নের চতুর্থে রাহু, বুধ সহযোগে পাপ পীড়িত আবার বুধের দৃষ্টি দশমস্থ্য কেতুর প্রতি। আমি তাঁদের বললাম দেখুন ছেলের বন্ধু স'ন্তান খুবই অশুভ, সে অবৈধ নারী সংসর্গে নিপ্ত, বৃহস্পতির পূর্ণ দৃষ্টি কেতুর প্রতি থাকাতে আপনার ছেলে নেশায় আসক্ত। চন্দ্র বসে আছে মীন রাশিতে ২৬ নক্ষত্রে অর্থাৎ শনির নক্ষত্রে। এমতাবয়স্থায় আমার কিছু করার নেই। প্রশ্ন করলাম কোষ্ঠীতে যে দু’টি পাথর ও একটি মহাবিদ্যা নিধি কবচ লিখে দিয়েছি তা কি ধারণ করিয়েছেন?

উত্তরে বলল যে ধারণ করাইনি। ছেলেটির মা অশ্রুসিক্ত কোটিপতির সন্তান। আমি বললাম তখন যদি জীবণ রত-পাথর দু’টি ও কবচটি ধারণ করাতেন আজ ছেলেটির এত অবক্ষয় হতো না। দুঃখিত আমি শুধু আপনার ছেলেকে পড়ার রুম কারেকশন করতে পারব না। এটা শাস্ত্রীয় বিধান নয়। হয় আপনার ডুপ্লেক্স বাড়ী সম্পূর্ণ রূপে কারেকশন করতে হবে নতুবা করাবেন না। কিন্তু আপনার ছেলের পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট আশা করবেন না। তাঁদের সম্মতি ক্রমে আমি ডুপ্লেক্স বাড়ীটি ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে কারেকশন করে দিলাম। কয়েক মাস পরে ছেলেটির মা বলল কবির সাহেব কারেকশনের পর ছেলেটির স্বভাব চরিত্র কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পরিক্ষায় পাশ করেনি। এখন একটা প্রতিকার ব্যবস্থা ছেলেটিকে দিন। আমি আর্থিক ব্যয়ের কথা বললাম তিনি রাজী হলেন। ছেলেটিকে এবার একটি গোমেদ (Jacinth বা Hesouite) মহানবগ্রহ কবচ, অক্ষয় কবচ দিলাম। গোমেদ দেওয়ার কারণ ছিল রাহুর প্রভাবে অন্য বন্ধু-বান্ধব ও নেশা করা থেকে বাঁচানোর জন্য। বর্তমানে ছেলেটি সুস্থ্য এবং (A-) পেয়ে পাশ করেছে। শ্রদ্ধেয় পাঠক নীচের ৩/৪ টি পয়েন্ট মেনে চলবেন Please-

অধিকাংশ মানুষের চাহিদা হচ্ছেঃ-

 
১.
দুঃখের আশঙ্কাহীন অন্তহীন সুখ।
২.
জীবনের মসৃণ গতিপথ চরম তৃপ্তির আশ্বাস, যাতে সামান্য ঢেউ থাকবে না।
৩.
প্রতিটিকাজে সীমাহীন লাভ, কোন ঝুঁকি থাকবে না, থাকবে শুধু ধারাবাহিক সন্তোষ। সর্বদা অর্থ হাতে আসবে।
৪.
সর্বক্ষেত্রে বিজয়ী, শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম হওয়ার বাসনা কিন্তু ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও পরিশ্রম ব্যতীতই এগুলি লাভ।
 
Please এহেন মনোভাব পরিহার করবেন। কর্মগুণে যদি ছওয়াব পূণ্য অর্জন করতে না পারেন অনন্ত কর্ম দোষে গুনাহ বা পাপ অর্জন করবেন না। বাসস্তু Correction করলে আপনি সব পেয়ে যাবেন। এ ধরনের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। বাস্তু কারেকশনে সবই পেতে পারেন তবে নির্দিষ্ট একটা সীমার মধ্যে- যেমন ১:৩ বা ১:৪ এর বেশি নয়। এর বেশী পেতে হলে কোষ্ঠী, (Horoscope)। হ্স্ত কররেখা বিচার করে নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে প্রতিকার গ্রহণ করতে হয়।
 
Note: আমরা বাংলা লিখাগুলি ঢাকা অনুবাদ কেন্দ English -এ রূপান্তর করেছেন-

ঠিকানা : অথবা www.rajeshshori.com এর Home Page GratiideClick করলে ঢাকা অনুবাদের ঠিকানা পাবেন।
 
উল্লেখিত লিখা শুধু মাত্র বাংলাদেশের জন্য লিখা। অন্যান্য দেশে বাস্তু Correction করতে হলে পত্র দ্বারা (রেজিষ্ট্রী) Website- এ, Phone- এ আলোচনা করবেন। Website- এ বাস্তু বিধান সম্পর্কীয় যত লিখা আছে তা শুধু মাত্র বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবকাঠামোর উপর ভিত্তি করে লিখা। অন্যান্য দেশ সমূহে এ বিধান না মানার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। কেননা পুরো বাস' শাস্ত্রটা ভৌগোলিক অবকাঠামোর উপর নির্ভরশীল। যেমন কোথায়ও পাহাড় ঘেরা দেশ। কোথায়ও বরফ ঘেরা, কোথায়ও সাগর-মহাসাগর বিভিন্ন দিক ও কোণে।
 

সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্ত্তার সৃষ্ট দৃশ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদের আপনার দ্বারা যেন কোন প্রকার ব্যত্যয় না ঘটে। এই শুভ কামনায় বাংলাদেশের ভু-খন্ডে জন্মগ্রহণকারীর পক্ষ থেকে বিশ্ব মানব সভ্যতার কল্যাণময় প্রার্থনা জানাচ্ছি।

শান্তি লাভ করুন

 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.