সর্বদা একটা কথা সবারই স্বরণ রাখা উচিত যে কারেকশন জীবনে একবার করতে হয় দু’ বার নয়। আপনার যদি মনে হয় যে আপনার বাস্তু সংশোধন করা উচিত তবে চেম্বারের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। সাগরের শামুক-ঝিনুক ও শঙ্খ আমি শুভ দিনে শুভ সময়ে সংগ্রহ করে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে শোধন করে থাকি। তৎপর যে কোন প্রতিষ্ঠান কারেকশন করে দেই। বাস্তু কারেকশন করনে মুখ সমৃদ্ধি, উত্তরোত্তর বুদ্ধি পায় একথা সর্বদা নলেজে রাখবেন। Please নিজে নিজে বাস্তু কারেকশন করতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না। একটি কথা না লিখলেই নয় বর্তমান সময়ে শহর, নগর বাসিগণ কি করছেন? যতই তাঁরা আর ও সভ্য, সাংস্কৃতিবান ও প্রগতিশীল হচ্ছেন, ততই তারা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। বেঁচে থাকা, চিকে থাকার প্রশ্ন তীব্র হচ্ছে, সেই সঙ্গে ভোগবিলাসের ইচ্ছা প্রধান হয়ে উঠেছে। মানুষের মনের উপর কেন এ ধরণের প্রতিক্রীয়া হচ্ছে, কারণ বাস্তু দোষ। অনেক কঠোর সমালোচক ভবিষ্যত বাণী করছেন যে এইভাবে চললে মনুষ্য সমাজ দ্রুত ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে এবং পৃথিবীর বদান্যতাও সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হবে। অধিকারের ইচ্ছায় মানুষ তার বেঁচে থাকার রসত নষ্ট করে উচ্ছিষ্ট ফেলে রেখেছে ও রাখছে।
সনাতন জ্ঞানের ধারা যা আমার ও আমাদের পূর্বপুরুষগণ সযত্নে ধারণ, পুষ্ট ও লালন পালন করে এসেছেন তার সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা ধারার উত্তোরত্তর সংঘাত বৃদ্ধির কারণ অনুমান করা যায়। বর্তমান প্রজন্মের মানুষ নিজেকে আর এ প্রশ্ন করেন না যে, আমি কি আমার জীবদ্দশায় এই জ্ঞানের সম্পদ ও প্রচুর্য্যকে হৃদয়ঙ্গন করতে পারব? অথবা এই প্রাচীন ঐতিহ্য কি আমার মধ্য দিয়ে আমার সন্তান /সন্তানদের মধ্যে প্রবাহিত হবে না? বড়ই পরিতাপের বিষয় অবধারিতভাবে না। ক্ষমতাবানও সমাজের উচ্চশ্রেণীর মানুষদের মধ্যে যে প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে তা হল আমি ( ক্ষমতাবান ব্যক্তি) কি এই জ্ঞানকে আমার ব্যক্তিগত আমার নিজের প্রয়োজনে এবং আরও সম্পদ সংগ্রহের কাজে লাগাতে পারিনা? অথবা এই জ্ঞান কি শেষ পর্যন্ত আমার সব সমস্যা দুর করতে সক্ষম হবে এবং আমাকে অবিরাম সুখ, ক্ষমতা ও সান্তনা প্রদান করতে সক্ষম হবে? এ সবই হচ্ছে বাস্তু দোষের প্রভাবে। অথচ আজীবন সুখের পিছনে ঘুরে সুখ তো পেলেনই না তৎপর বলে চেষ্টা করেছি কপালে ছিল না। অথচ প্রতিটি মানুষের কপাল প্রতিটি মানুষকে সঠিক চেষ্টার দ্বারা নিজে তৈরি করে নিতে হয়। এটা আল্লার বাণী।
আমার বেশ কিছু অভিজ্ঞতার মধ্যে আমি দু’টি উদাহরণ পাঠক/পাঠিকাদের উদ্দেশ্যে লিখছি। ১৯৯২ সালে জনৈক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমার পৈত্রিক নিবাস ঢাকায় কমলাপুর জসিমউদ্দিন রোডের বাড়ীতে এলেন। ( সামাজিক কারণ বশতঃ আমি কোন ক্লায়েণ্ট এর নাম কখনওই উল্লেখ করি না)। ব্যবসায়ী ভদ্র লোকের সঠিক জন্ম তারিখ ছিল সার্টিফিকেট অনুযায়ী, যেটা রাজেশ্বরী জ্যোতিষলয় কখনওই গ্রহণ করে না। ভদ্র লোকের হস্তকর রেখা বিচার করলাম কিছু লিখে দিলাম। একটি ধনমান অগ্রসন কবচ ও একটি পীত পোখরাজ পাথর লিখলাম (পীত পোখরাজ = Yellow Sapphire)। ভদ্র লোক ২ সপ্তাহের মধ্যে দু’টিই আমার মাধ্যমে নিলেন। তৎপর প্রস্তাব দিলেন তার অফিস, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বাড়ী চেক করে বাস্তু মতে কারেকশন করার জন্য। টাকা অর্থাৎ আমার ফিও অগ্রিম দিয়ে গেলেন। শুভ দিনে আমি তাঁর সবই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্ত্তী শুভ দিনে (প্রায় ১০/১২ দিন পর) অফিস, বাড়ী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কারেকশন করে দিলাম। ৮/১০ মাস পরে পত্রিকায় দেখি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ও সি.আই.পি পদও পেয়োছেন। আমার সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই (রাজেশ্বরী কনসাল্টেশন লিঃ কখনও কোন ক্লায়েণ্টদের সাথে স্বইচ্ছায় যোগাযোগ করে না। শুধু মাত্র সদস্যদের ঠিকানায় শান্তি বাস্তু পাঠানো হয়। ২০০৬ খ্রীষ্টাদ্ধের আগষ্টের তিনি আমার সাথে পূনরায় সাক্ষাত করেন বাস্তু সংশোধনের ব্যাপারে।
আমি বললাম একবার তো সবই সংশোধন করে দিয়েছি আর করা যাবেনা। তিনিও নাছোড় বান্দা, বললেন আমার প্রতিষ্ঠানের মুখ্য প্রুবেশদ্বার সংশোধন করতে হবে, আমিও গেলাম, ঐ দিন অবশ্য শুভ যোগছিল। তাঁর প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পরে তিনি আমাকে বললেন বর্তমান অফিস ঘরের নক্সার পরিকল্পনা ও যথোচিৎ পরিবর্তন করার পর ” আজাদি” পদ হিসাব করে অতিরিক্ত সুবিধা প্রাপ্তির জন্য অফিসের প্রবেশদ্বারের পরিবর্তন করতে সুপারিশ করেন। ক্লায়েণ্ট ব্যবসায়ী সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করলেন- পরিবর্তন করতেই হবে এবং এর দ্বারা আপনি আমাকে কি দিতে পারবেন, আমি উত্তর দিলাম উন্নতি, লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য সমৃদ্ধি, বন্ধুত্ব, আধ্যাত্মিক তথা আত্মিক সন্তষ্টি। তিনি বললেন আমি শুধু সমৃদ্ধি চাই। আমি সি.আই.পি ব্যবসায়ী বন্ধুত্ব দিয়ে আমার কি হবে? আমি বললাম এই যদি হয় আপনার ব্যবসার উদ্দেশ্য তাহলে আপনি ঝামেলায় পড়বেন আর তাছাড়া ১২ বৎসর মেয়াদী আপনাকে ধনমান অগ্রসন কবচ দেওয়া হয়েছে এটাকে নদীতে ভাসিয়ে না দিয়ে দেহে ধারণ (ডান বাহুতে) করে আছেন, এটাতো ঠিক না। এতে ধন, মান-সন্মান সবই নষ্ট হতে পারে। তিনি কথার গুরুত্ব দিলেন না। আমি তাঁকে বললাম- আমি আপনার আয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্থিরতা এনে দিতে পারি। সেটা হচ্ছে আয় ও ব্যয়ের ভাল অনুপাত। |
|