বাস্তুদোষ ও প্রতিকার
 

গৌণ দোষ:

এই দোষ অনুবর্তী দোষ, যা অন্য দোষের ফলস্বরূপ। এ ধরণের ত্রুটি স্থান বদল করে ও তার প্রয়োগ পরিবর্তন করে সংশোধন করা যেতে পারে। বাস্তুশাস্ত্রে বিভিন্ন নীতি ও সমসাময়িক বাস্তু বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই সব সংশোধনের উপায় বলা হয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞ বাস্তুবিদ সার্বিক পরিস্থিতি দেখে তৎপর সিদ্ধান্তু নিয়ে থাকেন।

১। ত্রিকোণ জমি: ত্রিকোণ জমি শুভ নয়। এই জমিতে বাড়ি করার আগে তাকে সংশোধন করে নিতে হবে। এই ধরণের ত্রিকোণ জমির মধ্যে থেকে নিম্নের চিত্রের মতো আয়তকার বা চৌকো জমি বের করে নিয়ে তাতে বাড়ি তৈরি করতে হবে। এ ধরণের জমিতে দিকের কোনও গুরুত্ব নেই।

চিত্রঃ

২। বিষমাকৃতি জমি: এমন জমি বিভিন্ন দিকে বিষমাকৃতি হয়। এইরূপ জমিকে জমির অবস্থান ভেদে সংশোধন করে তবেই সেই সংশোধিত জমিতে বাড়ি তৈরি করা উচিত। এ ধরণের জমিতে চিত্রে যেভাবে বাড়ানো অংশ বাদ দিয়ে আয়তাকার জমির খণ্ড বের করা হয়েছে, তাতেই বাড়ি করা উচিত।

চিত্রঃ

জমির দক্ষিণ-পূর্ব এলাকা যদি বাড়ানো থাকে তা হলে তাকে আয়তাকারে কেটে নিয়ে তাতে বাড়ি করা উচিত। পাশের চিত্রে দেখুন।

চিত্রঃ

এ ধরণের জমি যাতে উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক বাড়ানো আছে, সেখানে আয়তাকার বা চৌকো জমি কেটে নিয়ে বাড়ি করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ যেন ৯০ ডিগ্রি হয়। পাশের চিত্রে দেখুন।

চিত্রঃ

যে জমির উত্তর-পূর্ব দিক বাড়ানো আছে সেখানে বাড়ি করা যেতে পারে। এ রকম জমির সংশোধনের প্রয়োজন নেই। কারণ উত্তর-পূর্ব দিকে বাড়ানো জমি শুভ ফলদায়ী। পাশের চিত্রে দেখুন।

চিত্রঃ

উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বেড়ে থাকা জমির উভয় দিকই সংশোধন করে নিয়ে আয়তাকার বা চৌকো করে নিয়ে তাতে বাড়ি করতে হবে। যে কোনও দিকে যদি “বিষম আয়তাকার” জমি হয় তবে তার উপর ও নীচের কোণাচে অংশ দুটি জমির মাপ অনুযায়ী অল্প কিছু ছেড়ে অন্তত ৩ ফুট উচ্চতার পাঁচিল দিয়ে জমিকে চৌকো অথবা আয়তাকার করে নিতে হবে।

দর্পণের মাধ্যমে সংশোধন : যাহা আমরা / আমি করি না। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবকাঠামোতে এতে বাস্তু সংশোধন হয় না। আমার পূর্ব পূরুষরা এইভাবে সংশোধন করতে বারণ করেছেন। তবে ইদানিং বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তুতে গিয়ে দেখেছি অনেকেই দর্পণের সাহায্যে বাস্তু সংশোধন করে হতাশায় ভুগছেন। পাঠক পাঠিকাদের ভূল ভাঙাতে তবুও আমি ওয়েব সাইটে উল্লেখ করলাম দর্পনের প্রতিবিম্বে বিভিন্ন প্রকার প্রতিচ্ছবি দৃশ্য হয়। আবার গৃহ বাসীদের শূচী/ অশূচীর ব্যাপারটাও দেখতে হবে। দর্পনের মাধ্যমে বেশ কিছু অনাকাঙ্খিত জ্যামিতিক চিত্রের প্রতিবিম্ব ঘটে যাহা বাস্তুর জন্য চরম অশুভ। বাস্তুতে দর্পণ বা আয়নার যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাস্তুশক্তি বৃদ্ধির জন্য দর্পণের প্রয়োজন আছে। কোনও রকমের নিম্নস্থ জায়গায় শক্তিশালী সাধারণ মানের যে কোনও আয়না রাখা দরকার। তবে এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্কতার প্রয়োজন আছে। আয়না কোনও অবস্থাতেই যেন এরকম জায়গায় বসানো না হয় যাতে দক্ষিণ-পূর্ব অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক প্রতিফলিত হয়। শোওয়ার ঘর এবং শয্যার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। কারণ শোওয়ার ঘর এবং বিছানাতেই মানুষের জীবনের এক-তৃতীয়াংশ কেটে যায়।

চিত্রঃ


 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.