যে কোনও বাড়ি, ফ্ল্যাট, অট্টালিকা অথবা কারখানা সম্পুর্ণরূপে বাস্তুনীতি অনুসরণ করে তৈরি করা অত্যন্ত শক্ত। নির্মাণ কার্যের একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যদি অত্যন্ত সতর্ক হয়ে বাস্তুনীতি মেনে চলা যায় তা হলেই তা সম্পুর্ণরূপে বাস্তুসম্মত বাড়ি হয়ে উঠতে পারে। বাস্তু মেনে বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরি না করা হলে তাতে বাস্তুদোষ রয়ে যায়।
বাস্তুশাস্ত্রীরা সেই সব দোষ কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রতিকারের ব্যবস্থাও বলেছেন। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তু দোষ কাটানোরও ব্যবস্থা আছে। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংশোধনের নানা উপায় আছে ঠিকই, কিন্তু এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বহুনীতি আছে, সম্পূর্ণ নীতিই দাঁড়িয়ে আছে অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে, আবার যাদের জ্যোতিষ, বাস্তু, তন্ত্রশাস্ত্রের পারিবারিক ঐতিয্য পূর্ব থেকেই আছে তাঁদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশী এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। একে বলা হয় ফলিত বাস্তু বিধান। সুতরাং বাস্তুদোষ দূর করার ব্যাপারে বিশদভাবে না জানলে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হওয়া সম্ভব নয়। বাস্তুদোষ হলেও অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ বাস্তুদোষ কাটানো যায়। এই বাস্তুদোষকে মোটামুটি দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
ক) প্রাথমিক দোষ খ) গৌণ দোষ
প্রাথমিক দোষ:
অনেক সময়ই কোনও বাড়ি তৈরির সময় কিছু দোষ নিয়ে তৈরি হয়। দোষগুলি হল: দিক্মূল জমি, শল্যদোষ, জমিস্তর দোষ, উত্তর-পূর্বে ছাঁটা জমি।
১। দিক্মূল জমি : যে জমির দুই প্রান্ত চৌম্বক অক্ষের (উত্তর-দক্ষিণ অক্ষ) সমান্তরাল নয় তাকে দিক্মূল জমি বলে। এইরূপ জমি পরিহার করা উচিত। তা যদি সম্ভব না হয় তবে অভিজ্ঞ বাস্তুকারকে দিয়ে নকশা প্রস্তুত করিয়ে তবেই বাড়ি করে বাস করা উচিত।
চিত্রঃ
২। শল্যদোষ : কোনও জমির মাটির ত্রুটিকে বলে শল্যদোষ। এই শল্যদোষ হল কোনও জমির প্রাথমিক দোষ। কাজেই শল্যদোষ সংশোধন অবশ্যই করা উচিত। কারণ, বাড়ি তৈরিই হয় মাটির উপর। আর মাটির দোষ কাটিয়ে ওঠার জন্য যেখানে বাড়ি তৈরি হবে সেই জায়গার সম্পূর্ণ জমির মাটি তিন গজ পর্যন্ত খুঁড়ে সেই মাটি সরিয়ে ফেলতে হবে। তারপর ভাল মাটি দিয়ে ভাল করে গোটা গর্তটি ভরাট করাতে হবে। যদিও ব্যবস্থাটি অত্যনন্ত ব্যয়সাপেক্ষ কিন্তু এই পদ্ধতিতে মাটির দোষ সম্পুর্ণভাবে দূরীভূত করা সম্ভব।
৩। জমিস্তর দোষ : বাস্তুশাস্ত্রে জমির স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জমির স্তর অর্থে জমির ঢাল এবং জমি সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ। এ বিষয়ে ‘বিভিন্ন ধরণের জমি’। বাস্তুশাস্ত্র মতে জমির দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিকটা তুঙ্গস্থ বা উঁচু থাকা বিশেষ দরকার। জমির ঢালু দিকটি থাকবে উত্তর ও পূর্ব দিকে। জমির অবস্থা এরকম না থাকলে বাড়ি তৈরির আগে জমিকে অবশ্যই সংশোধন করে নেওয়া উচিত। এই সংশোধনের ব্যয় শল্যদোষ সংশোধনের তুলনায় অনেক কম।
৪। উত্তর-পূর্ব দিকে কাটা জমি: জমি উত্তর-পূর্ব দিকে ছাঁটা বা কাটা হলে তা অত্যন্ত খারাপ ও অশুভ। এ ধরণের জমি নীচের ছবির মতো সংশোধন করে নেওয়া যেতে পারে।
ছবিঃ
এই চিত্রে ‘বিন্দু’ দেওয়া জমির অংশটি বাদ দিয়ে সেই জমির অংশ পাশের জমির মালিককে বিক্রি করে দেওয়া যেতে পারে। কারণ এই জমির উত্তর-পূর্বের কাটা অংশ ক্ষতিকর, কিন্তু পাশের জমির পক্ষে তা ক্ষতিকর নয়। এরকম ব্যবস্থা যদি না করা সম্ভব হয় তা হলে উত্তর-পূর্ব দিকে সম্ভব হলে কিছু জমি কিনে এই জমির কাটা অংশকে সমান করে নেওয়া যেতে পারে। যদি এরকম দুটি জমি পাওয়া যায়, যার একটায় ত্রুটি আছে, তা হলে দুটি জমিকে একসঙ্গে যুক্ত করে দিলে তার দোষ কেটে যায়।
চিত্রঃ
|