ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বাস্তু
 

পূর্ব দিকের দেওয়ালের উত্তর অংশে অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব বা ঈশান কোণে পশ্চিমমুখী করে পবিত্র আয়াত বা সূরা রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব কোণের উত্তরদিকের দেওয়াল ঘেঁসে আয়াতুল কুরসী বসাতে হবে। উত্তর-পূর্বের কুলুঙ্গিতে কোরআন শরীফের সূরা বা পবিত্র চিহ্ন রাখা যেতে পারে। উক্ত স্থান থেকে কমপক্ষে ছয় ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে মালপত্র রাখা যেতে পারে। দোকানের বেশিরভাগ জিনিসপত্র সম্ভব হলে পশ্চিম দিকের মেঝেতে চটের বস্তা, কাঠের বা কার্ডবোর্ডের বাক্স ইত্যাদি ভরে রাখতে হবে। এইগুলি তাকে না রাখাই ভাল। মালপত্র প্রচন্ড ভারী হলে সে সব পূর্ব ও উত্তর দিকে নূন্যতম ৩ ইঞ্চি এবং উত্তর-পূর্বে ন্যূনতম ১ ফুট জায়গা ছেড়ে রাখতে হবে। এভাবে জিনিসপত্র রাখলে ব্যবসায় দিনে দিনে উন্নতি ঘটবে। জিনিসপত্র রাখার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং সে জন্যই দোকানের মুখ যে দিকেই হোক না কেন, দোকানের মালপত্র যদি ওইভাবে রাখা হয় তা হলেও দোকানের ভালই হবে। দক্ষিণমুখী দোকানের চিত্রময় নির্দেশ

পশ্চিমমুখী দোকান :

পশ্চিমমুখী দোকান বাস'মতে সাধারণ মানের। পশ্চিম দিকের সীমানা দেওয়াল সংলগ্ন দোকান তৈরি করতে হবে।দোকানের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চেয়ার টেবিল এরকমভাবে বসাতে হবে যাতে মুখ উত্তর দিকে থাকে। দোকান মালিককে উত্তরের দিকে মুখ করে বসতে হবে। আলমারি বা ক্যাশবাক্স দোকান মালিকের বাঁদিকে থাকবে। এগুলির মুখ থাকবে পূর্ব, পূর্বাংশের উত্তর-পূর্ব, উত্তর অথবা উত্তরাংশের উত্তর-পূর্ব দিকে। ক্যাশবাক্স বা আলামারি সম্পূর্ণরূপে উত্তর-পূর্ব দিকে না ঘুরে যায় এটা লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, তা না হলে ক্যাশ বাক্স বা আলমারির পিছনের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে একটা ফাঁক রয়ে যাবে। এবং তার ফলে খারাপ প্রভাব পড়বে।

পবিত্র আয়াত বা চিহ্ন একই রকম জায়গায় থাকবে যেমনটি দক্ষিণমুখী দোকানের জন্য বলা হয়েছে।

উত্তরমুখী দোকান :

বাস্তুমতে দোকান তৈরি করলে উত্তরমুখী দোকান থেকে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়। উত্তরমুখী দোকান উত্তরের সীমানা দেওয়াল কিছুটা ছেড়ে দিয়ে তৈরি করতে হবে (এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন আইন অনুসারেই ছাড়তে হবে)। যে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে তাতে দোকানের গ্রাহকদের প্রবেশের সিঁড়ি তৈরি করা যেতে পারে। দোকান মালিক পশ্চিমাংশের উত্তর-পশ্চিম কোনায় টেবিল বা চেয়ার পেতে পূর্বাংশের উত্তর-পূর্বদিকে মুখ করে বসবেন। ডান দিকে থাকবে ক্যাশবাক্স বা আলমারি। দোকান মালিক ইচ্ছে করলে তার ডান দিকে একটি টুলে ক্যাশবাক্স বা আলমারি রাখতে পারেন। ইচ্ছে করলে দোকান মালিক মেঝেতেও বসতে পারেন। দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় টাকা রাখার ক্যাশবাক্স বা আলমারি রাখা যেতে পারে।

দোকানের গ্রাহকরা এগিয়ে থাকা উত্তর বা উত্তরাংশের উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে দোকানে ঢুকবেন।মালপত্র রাখা, মজুদ করা ও পবিত্র আয়াত বা চিহ্ন টাঙানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও পশ্চিমমুখী দোকানের মতোই নিয়ম মানতে হবে।

উত্তরমুখী দোকানের চিত্রময় নির্দেশ :

উত্তরমুখী দোকানের মালিক যতখানি সম্ভব উত্তর-পশ্চিম কোণ ছেড়ে নিজের বসার জায়গা করবেন। এরকম বসার জাগয়া না হলে মামলা-মকদ্দমা ও অযথা আশঙ্কা থাকবে।


পূর্বমুখী দোকান :

পূর্বমুখী দোকানপাট ভাল সুফল দেয়। এরকম দিকের দোকানও পূর্ব দিকের সীমানা দেওয়াল কিছুটা ছেড়ে তৈরি করতে হবে। পূর্ব দিকে ছেড়ে দেওয়া ফাঁকা জায়গায় দোকানের প্রবেশপথ রাখা উচিত। দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় দোকান মালিকের বসার জায়গা করতে হবে। বসা অবস'ায় দোকান মালিকের মুখ যেন পূর্বদিকে থাকে। এরকম দোকান গ্রাহকদের প্রবেশের পথ থাকবে পূর্ব অথবা উত্তরাংশের উত্তর-পূর্ব দিকে। দোকানের পশ্চিমাংশের উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিমমুখী করে ঠাকুরের ছবি টাঙানো বা পুজো করা যাবে। পূর্বমুখী দোকানের মালিক যদি দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় বসে কারবার করেন তা অশুভ। শত্রু ভয়, চুরির ভয়, আগুন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো থাকবেই, এমনকি দোকান মালিকের স্বাস্থ্যহানিও ঘটতে পারে। সুতরাং অবশ্যই দক্ষিণ-পুর্ব কোণ থেকে দুরে দোকান মালিক বসবেন।

পূর্বমুখী দোকানের চিত্রময় নির্দেশ
 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.