সর্ব বেদসার, সর্বতন্ত্রসার, সর্বপুরাণ ও উপপুরাণসার, ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর কথিত সনাতন ধর্মালম্বীরা শ্রী শ্রী দুর্গানাম জপ সাধন করুন। এই দুর্গে স্বয়ং একটি সিদ্ধমন্ত্র শুধু ওঁ হ্রীং দুর্গে দুর্গে রক্ষনি স্বাহা এই মন্ত্র প্রত্যহ ১০০৮ বার জপ করলেই হবে। জপে অসমর্থ হলে লাল কালি দিয়ে এই মন্ত্রটি প্রত্যহ ১০০৮ বার লিখতে হবে তবে সময় থাকলে এর বেশী সংখ্যা জপ বা লিখা যাবে। সনাতন ধর্মের সর্ব্বসম্প্রদায়ই লিখতে পারেন। এই নাম জপ ও লিখতে গুরুর প্রয়োজন নেই। সময়, অসময় শুচি ও অশুচির প্রয়োজন নেই। ভ্রষ্টা, পতিতা এমনকি বারবণিতাও জপধ্যান করতে পারেন।
ধর্ম শুধু মাত্র ধার্মিক পোষাক পরা নামাজ রোজা পূজা অর্চনা করা নয়। ধর্মের সঙ্গে জীবনের সর্ম্পক রয়েছে। আমাদের মর্যাদা,পরম্পরা,সংস্কার আর জীবন মূল্যের নামই হচ্ছে ধর্ম। যে ব্যক্তি কখনো ক্রোধ প্রকাশ করে না, একমাত্র সেই ধার্মিক হতে পারে আর যে ব্যক্তি কথায় কথায় রেগে উঠে সে কখনো ধার্মিক হতে পারে না। যতক্ষন পর্যন্ত ক্রোধের প্রশমন না হচ্ছে, ততক্ষন পর্যন্ত ব্যক্তি ধার্মিক হতে পারবে না। ভিতরের অন্ধকার ছেয়ে থাকলে বাহিরে প্রদীপ জ্বালানোর কোন অর্থ হয়না। সবার আগে মনের অন্ধকার ক্রোধকে বাইরে বের করে আনুন একমাত্র তা হলেই ধার্মিকতা, আধ্যাত্মিকতা জাগ্রত হবে।
প্রাণশক্তি হচ্ছে প্রাণ বায়ুগুলোর শক্তি যেটাকে জাগ্রত করার জন্য কিছু শক্তিশালী আয়াত উচ্চারণ করার অত্যাবশ্যক। যতক্ষন পর্যন্ত প্রাণশক্তি জাগ্রত রয়েছে ততক্ষনই জীবন। জীবনের সবচেয়ে বড় জিনিষ হচ্ছে সন্তুষ্টি। কিন্তু যখন ব্যক্তির আত্মাই অতৃপ্ত থাকে, তখন সব কিছুই ব্যর্থ হয়ে পড়ে। আজ প্রতিটি ব্যক্তিই সংসারের বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছে এই বন্ধন থেকে মুক্তি লাভের জন্য এবং রোগে,শোকে,দারিদ্রে,দুর্ভিক্ষে, পৃথিবীর শান্তি কামনায়, রাষ্ট্র বিপ্লব,অপমৃত্যুভয়ে, সর্পভয়ে, অগ্নিভয়ে, ব্যঘ্র ও অন্যান্য হিংস্র জন্তুর ভয়ে, অরণ্যে, রণে দারুন বিপদে, শত্রু ভয়ে, জল ও স্থল বিপদে,বিবাদে বিষাদে, স্বামী স্ত্রীর সুখ মিলনে,সৃষ্টিকর্ত্তার প্রেমে, অভিষ্ট সিদ্ধিতে,বৈধব্য দোষে, স্ব কামনায়, অকাল বৈধব্য দোষে,সন্তান কামনায়, অর্থলাভার্থে, স্বজন বিচ্ছেদে,বন্ধু বা আত্মীয় বিচ্ছেদে, কর্ম্মলাভার্থে, আয় বৃদ্ধিতে,ব্যয় সংকুলানে মুসলমান গভীর রাতে তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে দোয়ায়ে গঞ্জল আরশ, দোয়ায়ে তুনাজ্জিনা ও সর্বদা উচ্চারনে বা মনে মনে লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলীউল আযীম" পাঠ করবেন এবং প্রত্যেক ফরজ নামাজান্তে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে ও প্রাণীর কল্যানার্থে সৃষ্টিকর্ত্তার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করবেন।
সনাতন ওঁ হ্রীং দুর্গে দুর্গে রক্ষনি মন্ত্রটি জপ করলেই হবে।
যে কথা আমি এখানে লিখলাম এগুলি সবগুলিই আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা।
কোন বইতে এগুলি পাবেন না। আমার লিখা মিলিয়ে দেখুন, যদি দেখেন যে,আপনার ক্ষেত্রে এগুলি পালন করে উপকার পাচ্ছেন তাহলে মেনে চলুন, অন্যথায় মানার কোন প্রয়োজন নেই।
সর্ব্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট দৃশ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদের আপনার দ্বারা যেন কোন প্রকার ব্যত্যয় না ঘটে এ শুভ কামনায় বাংলাদেশ ভূখন্ডে জম্মগ্রহনকারীর পক্ষ থেকে বিশ্ব মানব সভ্যতার প্রতি কল্যাণময় প্রার্থনা জানাচ্ছি।