| প্রশ্নঃ বাড়ি তৈরির পক্ষে আদর্শ লম্বা, চওড়া এবং উচ্চতা ঠিক কেমন এবং কতটা হওয়া উচিত? বাস্তুশাস্ত্রে এরকম কি কোনও নির্দেশ আছে? |
উত্তরঃ বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী চৌকো জমিই বাড়ি তৈরির পক্ষে সবচেয়ে আদর্শ অর্থাৎ যা লম্বা ও চওড়ায় সমান। কিন্তু এরকম জমি বাড়ি তৈরির জন্য পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। এরপরই আছে আয়তাকার জমির স্থান। আয়তাকার জমিও বাস্তর জন্যে খুবই উপযুক্ত। উদাহরণস্বরূপ ২৫ ফুট লম্বা হলে চওড়া হওয়া উচিত ২০ ফুট। সাধারণভাবে এই মাপ লম্বায় ৩৭.৫০ ফুট হলে চওড়ায় ৩০ ফুট, লম্বা ১২৫ ফুট হলে ১০০ ফুট চওড়া হবে।
|
|
উচ্চতা সাধারণত বসবাদের বাড়ির পক্ষে যতটা, চওড়া তার অনুরূপ হওয়া উচিত, কিন্তু রাজপ্রাসাদ ও সরকারি অফিসবাড়ি এই নিয়মের মধ্যে পড়ে না। তার জন্য আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। প্রাচীন স্থাপত্যশাস্ত্রে আমরা এগারোতলা উচ্চতাবিশিষ্ট বাড়ির বর্ণনা পাই। স্থির এবং অদৃশ্য ভাগ্যকে কীভাবে বাস্তুশাস্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত যে-কোনও মঙ্গলামঙ্গল আশঙ্কাকে ভীতিপ্রদ হয়ে ওঠা থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জীবনে উন্নতি এবং সমৃদ্ধিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায়? |
|
মানবজীবন দুভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে অর্ধক হচ্ছে চেষ্টা বা কর্ম এবং বাকি অর্ধেক হচ্ছে ভাগ্য, অর্থাৎ ভাগ্য + চেষ্টা / কর্ম = ফল। এই প্রথমাংশ সম্পূর্ণ অধরা ও অদৃশ্য এবং স্থির। অপরপক্ষে কর্মের পুরোটাই দৃশ্যমান এবং জাতকের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। যেমন বাস্তু বা আবাসভুমি এবং কর্মস্থান। বাস'র পুরোটাই দৃশ্যমান এবং যা জাতকের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে। ভাগ্য সংক্রান্ত কোনও গোলযোগ থাকলে তা বাস'দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে আংশিকভাবে ঠিক মতো দিকে চালনা করা যায়। |
|
জন্মকুণ্ডলীর বিভিন্ন দোষ জ্যোতিষ ও বাস্তুশাস্ত্র মতে বিচার করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে বর্তমান ও আগামী জীবন সুসংবদ্ধ ও সুখময় হয়ে ওঠে। |
|
বাস্তুর পুরোটাই দৃশ্যমান আর তা সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষ। যেমন বাড়ির প্রবেশপথ, শয়নঘর, প্রার্থনাকক্ষ, পাকশালা, অভ্যর্থনা কক্ষ, ব্রহ্মস্থান, সিঁড়ি ইত্যাদি সমস্ত কিছু যদি বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী পরিকল্পনা করে তৈরি করা যায় তবে তা অদৃশ্য ভাগ্যচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং বাস্তুর শুভফলের দ্বারা ভাগ্যচক্রকে নিয়ন্ত্রন করে মানবজীবনের শুভময়তাকে বর্ধিত করে। |
|
একটি সাধারণ উদাহরণের সাহায্যে ব্যাপারটাকে বুঝানো যাক্ যেমন, মানব জীবনের দুভাগ : যথা, ভাগ্য ও কর্ম। শতকরা ৫০ শতাংশ করে ভাগ করা গেলে ভাগ্যফলের যে খারাপ অংশ তার শতকরা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশকে বাস্তুশাস্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা যায়। তবেই ভাগ্য অনেকটা সুখময় হয়ে ওঠে। বাস্তুদোষ যদি সম্পূর্ণভাবে সংশোধন করা যায় তবে বাস্তুর ৫০ শতাংশ পুরোটাই লাভ করা যায়। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে অন্তত যদি ২৫ শতাংশকেও এর দ্বারা প্রভাবিত করা যায় জাতক তবে শতকরা ৭৫ শতাংশ শুভফল অর্জন করে। |
|
এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ যদি একটু খেয়াল করে তবে বাস্তু সংস্কার দ্বারা তার নিজের এবং পরিবারের সবাইয়ের ভাগ্যকে পরিচ্ছন্নভাবে গড়ে তুলতে পারে। |
|