| প্রশ্নঃ বাড়ি করার সময় কেন উত্তর-পূর্ব দিকে কোনও প্রকার নির্শাণ না করে খালি রাখার কথা বলা হয়েছে বাস্তুশাস্ত্রে? |
উত্তরঃ সূর্য পরিক্রমণ করে দুটি আয়নে। একটি উত্তরায়ণ, অপরটি দক্ষিণায়ন। উত্তরায়ণে সূর্য চলে উত্তরাপথে এবং দক্ষিণায়নে দক্ষিণ পথে। দুই অয়নে সূর্যোদয়ের মধ্যে সামান্য কয়েক ডিগ্রির তফাত দেখা যায়। সূর্যকিরণে আছে আলট্রা-ভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি এবং ইনফ্রা-রেড বা লাল উজানি রশ্মি। আমরা সূর্যের যে সাদা আলো দেখতে পাই এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সাতটি রং- বেগুনি নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা লাল। এই লাল রঙেই মিশে রয়েছে উপকারী লাল উজানি রশ্মি (ইনফ্রা-রেড রে)। আর বেগুনি রঙেই রয়েছে অত্যন্ত বেশি পরিমাপে মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (আলট্রা-ভায়োলেট রে)। সূর্য দুই অয়নেই ওঠে উত্তর-পূর্ব দিকে। সে কারণে উত্তর-পূর্ব দিক্ খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। সকালের সূর্য থেকে লাল উজানির স্রোত ধেয়ে আসে। এই লাল উজানি রশ্মি মানবদেহে উপকারী বস্তু বলে উত্তর-পূর্ব দিকে বাড়িঘর তৈরি না করে খোলা রাখাই শ্রেয়। শুধু তাই নয, উত্তর-পুর্বদিকে পুকুর খোলা বা পাতকুয়ো অর্থাৎ জলের ব্যবস্থাও করা উচিত। পানি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মিগুলি শোষণ করে নেয়। বাস্তুশাস্ত্র মতে পানির ট্যাঙ্ক বা টিউবওয়েল উত্তর-পূর্ব দিকে করাই বিধেয়। উত্তর-পূর্ব দিকে যদি শৌচাগার বা রান্নাঘর তৈরি করা হয়, তা হলে সূর্যরশ্মি দূষিত হবে যা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই উত্তর-পূর্ব দিকে ইবাদত ঘর বা পড়ার ঘর করার নির্দেশ রয়েছে বাস্তশাস্ত্রে। বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকটি খোলা রাখার আর একটি বৈজ্ঞানিক কারন হল, পদার্থবিজ্ঞানী কিরচফের সূত্র অনুসারে যে কোনও বস্তু যে পরিমাণ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য শোষণ করে সেই একই পরিমাপ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য নিঃসারিত করে। তাই সকালে সুর্য থেকে যে লাল উজানি রশ্মি খোলা জায়গায় পড়ে, মাটি সেই লাল উজানি রশ্মি শুষে নেয়। যখন মাটি পচণ্ড পরিমাণে গরম হয়ে ওঠে তখন মাটি থেকে শোষিত লাল উজানি রশ্মি বিকিরিত হতে থাকে। তাই উত্তর-পূর্ব দিক্ খোলা রাখলে যেমন সকাল থেকে দুপুর অবধি সরাসরি লাল উজানি রশ্মি পাওয়া যায় তেমনই দুপুরের পরমাটি থেকে বিকিরিত লাল উজানি রশ্মিও মেলে। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন- লাল উজানি রশ্মি পাওয়ার জন্য উত্তর-পূর্ব দিক্ খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। |