জ্যোতিষ শাস্ত্রের মতে সৃষ্টি কর্তার বিধি নিয়মের শাসন কারক হলো গ্রহেরা। এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, জ্ঞান সমুদ্র ইসলামের সর্বপ্রথম আমীরুল মোমেনীন হজরত আলী (রাঃ) খলিফা হিসাবে সর্বপ্রথম তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি অধিক জোর দিয়েছিলেন। তাঁর অসংখ্য নীতিবাক্য ও দার্শনিক উক্তি বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি একজন কবি হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। “আনওয়ারুল আকওয়াল” নামক তাঁর একটি দীওয়ান বা কাব্যগ্রনে'র কথাও কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। তাঁর নামে প্রচলিত অনার একটি কাব্য গ্রন্থ “দীওয়ানে আলী” আজও আরবী মাদ্রাসা সমূহে পাঠ্য পুস্তক হিসাবে বিদ্যমান। আরবী ব্যাকরণসহ আরও বহু সূক্ষ্মজটিল শাস্ত্রের প্রবর্তক হিসাবে হজরত আলী (রাঃ) এর নাম সর্বজন স্বীকৃত। তাঁর আবিস্কৃত বা প্রবর্তিত বহু শাস্ত্র জ্ঞানের এক দীর্ঘ তালিকাও গবেষকগণ পেশ করেছেন। কেরাত, ফরায়েজ, কালাম, খেতাব, কেতাবত, স্বপ্নের তাবীর, নক্ষত্র বিদ্যা, তিব্ব কবিতা ও ছন্দ বিদ্যা, অংক প্রভৃতি শাস্ত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী। বিশেষতঃ ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বক্ষেত্রেই তাঁকে মুসলমানদের ইমাম মানা হয়ে থাকে।
‘নাহাজুল বালাগাহ’ নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হজরত আলী (রাঃ) এর রচনা বলে প্রচলিত। ইংরেজীসহ বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে হজরত আলী (রাঃ) জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কে বলেন- “হে মোমেন সব তোমরা জ্যোতিষশাস্ত্র ততটুকু শেখো, যতটুকু দ্বারা আত্মরক্ষা করা চলে।”
সুতরাং সৃষ্টিকর্তা বা খোদার উপর খোদকারী নয়-প্রকৃত পক্ষে জ্যোতিষশাস্ত্র দ্বারা অপার মহিমা, জীবন পথের নির্দেশনা, জীবন দর্শনের গতিধারা, আধ্যাত্মিকতার সন্ধান, বাস্তব জীবনের রূপরেখা ও বর্তমান সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়।
এর ভিত্তি হচ্ছে জন্মকালীন গ্রহ নক্ষত্র ও গ্রহদের অবস্থানের সঠিক হিসাব। সুহৃদ পাঠকবৃন্দ গ্রহরে প্রভাব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
জ্যোতিষ বিজ্ঞানে রত্নের ভুমিকাঃ
রত্ন-পাথরের ইতিহাস থেকে জানা যায় ভূত্বকে, ভূগর্ভে ও সমুদ্রগর্ভে সুনীল জলরাশির তলে বিভিন্ন প্রকার রত্ন-পাথর পাওয়া যায়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে গ্রহ-নক্ষত্রের শুভাশুভ ক্রিয়া মানুয়ের জীবনে বিদ্যমান থাকলেও রত্ন দ্বারা কি তার প্রতিকার সম্ভব? বা রত্ন ধারণে কি উপকৃত হওয়া যায়?
এর উত্তরে বলবো যে, মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ পরমাণুর সমন্বয়ে সৃষ্ট। সৌরমন্ডলের গ্রহগুলোও পরমাণুর সমষ্টি। আর বিভিন্ন প্রকার রত্নগুলো এমন সব পদার্থের সমন্বয়ে সৃষ্ট যার উপসথিতি মানব দেহেও বিদ্যমান। বিভিন্ন প্রকার রত্ন সরাসরি মানব দেহের ত্বককে স্পর্শ করে শরীরের উপর ইলেকটো ম্যাগনেটিক (Electro Magnetic) প্রভাব বিস্তার করে, মানব দেহের বিদ্যমান যে কোন পদার্থের অসামঞ্জস্যপূর্ণ উপসি'তির সামঞ্জস্য আনয়ন করে।
বিভিন্ন প্রকার রত্ন বিভিন্ন গ্রহের রশ্মি অতিমাত্রায় আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করতে পারে। তাই রত্ন ধারণ করে স্নায়ুর উপর বিশেষ বিশেষ গ্রহের রশ্মি যোগ বা বিয়োগ করে শক্তিশালী করা সম্ভব। ফলে স্নায়ুগুলি শক্তিশালী হবে ও নতুন চিন্তা চেতনায় জীবন প্রবাহের ক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল ভাবে এগিয়ে নিবে। আলোক রশ্মি, বায়ুমন্ডল (Atmosphere) ভেদ করে পৃথিরীর ভূ’ভাগের উপর পতিত হয়। গ্রহদের যেমন নিজস্ব তেজ বিকিরণের ক্ষমতা আছে, প্রতিটি রত্মেরও তেমনি পৃথক পৃথক তেজ আহরণের ক্ষমতা আছে। সূর্য এবং গ্রহমন্ডল থেকে বেরিয়ে আসা এই আলোক রশ্মিই আমাদের উপর নানাভাবে কাজ করে। ভু’গর্ভে বা সমুদ্র গর্ভে যে সকল রত্ন-পাথর সৃষ্টি হয় তাহাও ঐ সৌর রশ্মিরই রাসায়ণিক ক্রিয়ারফল। মানব দেহের উপর Cosmic Ray
জধু এর প্রভাব বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত । সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি (Ultra-Violet Ray) ও অপরাপর রঙ বিভিন্ন প্রকার রত্ম-পাথর এবং এর আভ্যন্তরীণ প্রচ্ছন্ন শক্তির উপর পরোক্ষ ও প্রত্যেক্ষভাবে ক্রিয়াশীল হয়ে মানবদেহে সংক্রামিত বিভিন্ন প্রকার ব্যাধির প্রতিকার করতে পারে। উল্লেখ্য রত্ম গুলোতেও বিভিন্ন রঙ বিদ্যমান। রত্নগুলো হচ্ছে-হীরা, রুবী, পান্না, মুক্তা, গোমেদ, ক্যাটসআই, পোখরাজ, প্রবাল ইত্যাদি।
আরো জানা যায়, বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ সৌরজগৎ (Solar System)
-কে স্পেকট্রোস্কোপ (Spactroscope) দিয়ে বিশ্লেষণ, পরিশীলন এবং অধুনা আবিষকৃত “কিরলিয়ান ফটো পদ্ধতি” দ্বারা যে ব্যাখ্যা পেয়েছেন, তার সাথে প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রবিদগণ (Astrologer) কর্তৃক বিশ্লেষিত জ্যোতিষ শাস্ত্রের বিভিন্ন তত্ত্বীয় ও ফলিত মতবাদ গুলোর মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) আজ প্রমাণ করছে যে, গ্রহ নক্ষত্র ও নক্ষত্র পুঞ্জগুলোর প্রতিটির উজ্জ্বলতা (Lumination) অনুযায়ী পৃথক পৃথক রঙ বিদ্যমান যেমন আমাদের সূর্যের রঙ হচ্ছে হালকা কমলা, শুক্রের রঙ হচ্ছে ধবধবে সাদা আর উত্তর আকাশের অন্যতম উজ্জ্বলতম তারকা প্রক্সিমা সেন্টরাই (Proxima Centauri) এর রং হচ্ছে উজ্জ্বল নীল।
|