জোতিষ বিজ্ঞানে গ্রহের ভূমিকা
 

মানুষের গুহা জীবন হতে আধুনিক কম্পিউটার যুগ পর্যন্ত (From cave life to modern computer age) বিজ্ঞানের নব নব আবিস্কারের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও জীবনের আগমন ও প্রবাহ যেমন থেমে নেই, ঠিক তেমনি সভ্যতার বর্তমান পর্যায়ে জ্ঞানের আপরাপর শাখার মত জ্যোতিষ বিজ্ঞান চর্চা, অনুশীলন এবং গবেষণাও থেমে নেই। সমগ্র বিশ্ব জগতে শ্রেষ্ট চিন্তাশীল বিবেকবান ও প্রজ্ঞাবান জীব হিসেবে মানুষের অবস্থান শীর্ষে। তাই এই অসীম মহা বিশ্বে মানুষের অবসথান, তার স্বাধীন বিচরণশীল মনোবৃত্তি ও পারিপার্শ্বিক পরিসি'তি ইত্যাদির প্রেক্ষিতে সর্বকালে সর্বযুগে একদল নিবেদিত প্রাণ মানুষ নিজস্ব চিন্তা -চেতনা প্রসারিত করেছেন তাঁরাই হলেন জ্যোতিষী (Astrologer)

অতি সুপ্রাচীন কাল হতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিকাংশ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, পন্ডিত, গণিতজ্ঞ, দার্শনিক ও বিজ্ঞানী প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ, দেশ জাতি বা সমপ্রদায়ের উপর অদৃষ্টের প্রভাব আবিস্কার করতে গিয়ে আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র গুলোকে নির্বাক বিষ্ফরিত দৃষ্টি ও অনুসন্ধিৎসু মন দিয়ে অবলোকন করতে শুরু করেন। এরই ফলে এক পর্যায়ে তত্ত্ব ও তথ্যের অনন্যতার কারনে রাশিচক্রের (Zodiac) বিভিন্ন স্থানে সৌর মন্ডরের গ্রহ-নক্ষত্রাদির অবস্থানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব যে রয়েছে এ ব্যাপারে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পন্ডিত জ্ঞানী ও শিক্ষিত সম্প্রায়ের মধ্যে কোন দ্বিমতের অবকাশ নেই। এ কথা আজ পরিস্কার যে, গ্রহ গুলোর প্রভাব শুধু স্থান কালের উপরই বিরাজমান নয়; এর প্রভাব ব্যক্তি মানসের উপরও শুধু ক্রিয়াশীল নয়, মানব শরীরের গ্রন্থী (Gland) গুলোর উপরও এর সুস্পষ্ট প্রভাব বিরাজমান। এটাও সত্যি যে মানুষ জন্ম সময়ে এক একটা নক্ষত্রের অধীন হয়ে জন্মায়।

শুধু তাই নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) মতে হিসাব করে যেমন গ্রহদের অবস্থান, দূরত্ব-গতিবিধি, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ প্রভৃতির সঠিক হিসাব নির্ণয় করা যায়, তেমনি জ্যোতিষবিজ্ঞান (Astrology) মতে জীবন প্রবাহের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা প্রবাহের ইঙ্গীত, আমাদের জীবনের কোথায় সমস্যা, কোন সময়ে কিসের দ্বারা উন্নতি বা কর্মপথ কি, পরিবেশ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, রাষ্ট্রীয় অবস্থা, ব্যবসা, চাকুরী, রোগ-ভোগ, স্বাস্থ্য, আর্থিক উন্নতি বা অর্থক্ষতি ইত্যাদি বিষয় নির্ণয় করাও সম্ভব। আজ আর কারো আজানা নয় যে, চন্দ্রের (Moon) কারণে সমুদ্রে ও নদীতে জোয়ার-ভাটা হয়।

এখানে উল্লেখ করা যায় যে, জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) মতে পৃথিবীর পানির উপর চন্দ্রের প্রভাব ক্রিয়াশীল, হাজার বছর আগে থেকে জানা থাকেলেও একথার সত্যতা প্রমাণিত হয় ১৬৮৭ খৃষ্টাব্দে বিজ্ঞানী নিউটনের মাধ্যমে।

জ্যোতিষ শাস্ত্র (Astrology) ও জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পথে যে সিদ্ধান্ত আসে তা অভিন্ন।

অসীত কুমার চক্রবর্ত্তীর ‘জ্যোতিষ বিজ্ঞান কথা’ গ্রন্থে জানা যায়- বহু বিজ্ঞানী চাঁদের প্রভাব সম্পর্কে জ্যোতিষ শাস্ত্রের বক্তব্য সমর্থন করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ এর মধ্যে কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গবেষণা মাধ্যমে সিদ্ধান্থে আসেন, পূর্ণচন্দ্র শুধুমাত্র মানুষের আবেগ বা চঞ্চলতাই বৃদ্ধি করে না, মানুয়ের অপরাধ প্রবণতাকেও জাগিয়ে দেয়। তাঁদের আরও বক্তব্য যে, এ সময়ে চাঁদের আলো এবং আকর্ষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তির অবনতি, বিভিন্ন প্রকার রোগ, হত্যা এবং আত্বহত্যা করার মানসিকতার সহায়ক হয়ে উঠে। ১৯৬৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ফরেনসিক সায়েন্স - ভেষজ বিজ্ঞান, রোগনিদান তত্ত্ব ও বিষ বিজ্ঞান সম্বন্ধে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্রে পৃথিরীর খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা অংশ গ্রহণ করেন। সেখানে ম্যাসাচুসেটস্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডঃ জ্যানিনো একটি গবেষণা পত্র উপস্থাপিত করে বলেন, সাহিত্য এবং প্রাচীন জনশ্রুতিতে চাঁদের প্রভাবে মানুষের সামাজিক মতিভ্রম বা উম্মত্ততা-কুসংস্কার বা উদ্ভট কল্পনা নয়, সত্যই চাঁদ মানুষকে প্রভাবিত করে। ডঃ জ্যানিনো চাঁদের প্রভাব সম্বন্ধে বহু যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের উপসংহারে বলেন, শারীর বৃত্তীয় পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় মানুষের দেহের তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি পায়।

ল্যাটিন ভাষায় চাঁদকে লুনা বলে। এই লুনাই উন্মাদনা সৃষ্টির কারক বলে উন্মাদ কথার ইংরেজী লুনাটিক শব্দের উৎপত্তি মহাকবি মিল্টন তার ‘প্যারাডাইস লষ্ট’ মহাকাব্যে মানুয়ের মস্তিষ্কের সঙ্গে চাঁদের সংযোগ কথা উল্লেখ করেছেন।

একথা আজ পরিস্কার, চন্দ্রের প্রভাব ব্যক্তি বিশেষ ছাড়াও অঞ্চল বিশেষেও ক্রিয়াশীল। যা হোক চন্দ্রই যে মানুয়ের দেহস' তরল পদার্থ এবং মনকে পরিচালিত করে তা পরিস্কার বলা আছে জ্যোতিষ শাস্ত্রে। এই শাস্ত্রের মতে কোন মানুষের মন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার জন্য চন্দ্রের পূর্ণতা, বলবত্তা এবং শুভ স্থানে অবস্থান আবশ্যক। চন্দ্রের বলবত্তা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে মানুস বল হ্রাস পাওয়ার সম্পর্ক সমানুপাতিক।

 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.