ধরিত্রী : ধরিত্রী বা পৃথিবী হল বৃহৎ একটি চুম্বক যার মধ্যে আছে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু। এর জন্যেই সৃষ্টি হচ্ছে নানাবিধ আকর্ষণ। পৃথিবীর এই চৌম্বকক্ষেত্র জুড়ে রয়েছে মাধ্যকর্ষণ শক্তি। আর এর থেকেই পৃথিরীর সমস্তবিষয়ে চেতন এবং অবচেতনের ফল লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ জাগতিক এবং অজাগতিক শক্তি পরিলক্ষিত হয়। ধরিত্রী বা পৃথিবীর দুই প্রান্ত সাড়ে তেইশ মধ্যাহ্নিক অবস্থায় আছে যার জন্য বছরের ছয় মাস উত্তরায়ণ এবং বাকি ছয় মাস দক্ষিণায়ন। পৃথিবী তার নিজের অক্ষে অর্থাৎ মেরু রেখার পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দিন এবং রাত্রির। আর পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে তার কক্ষপথ ধরে সম্পূর্ণ পরিক্রমা করতে সময় নিচ্ছে প্রায় ৩৬৫ ১/৪ দিন অর্থাৎ এক বৎসর। আগেই বলা হয়েছে পৃথিবীর তিনভাগ পানি আর একভাগ স'ল। ধরিত্রীতে এই পাঁচটি গুণই বর্তমান। যথা- শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধ।
চিত্র:
উপরের ছবি থেকে যে বৈশিষ্ট্য পাচ্ছি তাতে উত্তর-পূর্ব দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক শক্তি এই অংশেই পুঞ্জিভূত রয়েছে।
চিত্র:
পৃথিবী প্রতিনিয়ত উত্তর-দক্ষিণ অক্ষে ঘুরছে। ঘূর্ণায়মান অবসস্থায় উত্তর-পূর্ব দিকেই কাত হয়ে আছে। ভুমি, পানি, প্রকাশ, বায়ু ও আকাশের সঙ্গে মানুষের সম্বন্ধ। তাই আদিকাল থেকেই মানুষ বিচার-বিবেচনা করে ঠিক করেছিল যে, পুর্ব এবং উত্তর দিকে এরকম কোনও কিছু নির্মাণ বা বৃক্ষরোপণও অনুচিত যার ফলে সূর্যকিরণ বাধাপ্রাপ্ত হয়। পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে উত্তর দিকে ফাঁকা জায়গা রাখার অর্থ কী, কেননা সূর্যকিরণ তো পূর্ব দিক থেকে আসে।
আমরা সকলেই জানি, সূর্য সারা বছর একই পথে পূর্ব থেকে পশ্চিমে পরিক্রমণ করে না। একবার সে যায় উত্তরের পথে, আর একবার দক্ষিণপথে। প্রতি পথেই সে ছয়মাস ধরে নিয়মিত পরিক্রমণ করে। উত্তরের পথে পরিক্রমণ করে ২২ শে ডিসেম্বর থেকে ২১ শে জুন পর্যন্ত। এই সময়কে বলে সূর্যের উত্তরায়ণ। আবার দক্ষিণের পথে পরিক্রমণ কাল ২১ শে জুন থেকে ২২ শে ডিসেম্বর। এই সময়কে বলে সূর্যের দক্ষিণায়ন। সূর্য হল নেত্র, বায়ু হল প্রাণ, অন্তরিক্ষ হল আত্মা আর পৃথিবী হচ্ছে শরীর। সমস্ত জগতের আত্মাস্বরূপই হল সূর্য। সমস্ত প্রাণীর প্রাণশক্তির মূল কারণ হল সূর্যরশ্মি। সূর্য তার দিব্য এবং অমৃতরস দিয়ে সমস্ত প্রাণীর জীবন দান করে।
|
| |
আধুনিক বিজ্ঞান অনুসারে সূর্যরশ্মি বিভাজিত হয়েছে সাতটি রঙে। এর মধ্যে লাল উজানি রশ্মি হিতকর এবং অতিবেগুনি রশ্মি ক্ষতিকর। আধুনিক বিজ্ঞানীদের এই তথ্য প্রমাণের বহু হাজার বছর আগেই পবিত্র কোরআন শরীফে সূর্যরশ্মি সাতটি রঙে বিভক্ত তার উল্লেখ আছে। উদ্যন্ন এবং আরোহ শব্দ দুটি থেকে দুপুরের আগের সূর্যরশ্মি শরীরের পক্ষে শুভকর, এটি স্পষ্ট।
চিত্র:
আধুনিক বিজ্ঞানের মতে এই সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে সূর্য এক বিরাট ভুমিকা পালন করে চলেছে। এও বলা যেতে পারে, পৃথিবীর সৃষ্টির কারণ ভূত ও আধারভূত। পৃথিবী থেকে সূর্যের দুরত্ব ১৪৯৬ কোটি কিলোমিটার। প্রতি সেকেন্ডে ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার গতিতে সমানে ঊর্ধ্বগামী হচ্ছে সৌরশক্তির স্রোত। পৃথিবী সৌরশক্তির দু’কোটি অংশের মধ্যে একটি অংশ লাভ করে। সূর্য প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৬ ওয়াট শক্তি নির্গত করে। সূর্যরশ্মিতে এমন অনেক পদার্থ আছে যা মানুষ, জীবজন্তু ও গাছপালার বেঁচে থাকার পক্ষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই সৌরশক্তির জন্যই পানি বাষ্প হয়ে মেঘের সৃষ্টি হয় এবং বৃষ্টি হয়। এই রশ্মিই আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন তৈরি করে। সৌররশ্মি এমন অনেক কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে দেয় যা আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর ও নানা রকম রোগ সৃষ্টিকারী।
প্রাকৃতিক চিকিৎসায় সূর্যরশ্মিতে নিহিত বিভিন্ন রং দিয়ে অনেক রকমের চিকিৎসাও হয়। আয়ুর্বেদ মতে মানুষের শরীরের পাঁচটি প্রধান ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে পঞ্চভূতের। এ তথ্য নতুন নয়। ভূমি, আকাশ, বায়ু, পানি, অগ্নি ও ধরিত্রীর সঙ্গে মানবের নিগূঢ় সম্পর্কের কথা পূর্বের পাতায় ছবি এবং নীচের দুটি তালিকার সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হল।
|
পঞ্চতত্ত্ব |
ক্রিয়া |
উন্দ্রিয় |
শক্তির স্বরূপ |
তত্ত্ব |
অগ্নি
|
দৃষ্টি |
চোখ |
সূর্য |
অগ্নী |
বায়ু |
স্পর্শ |
ত্বক |
বায়ু |
বায়ু |
আকাশ |
শব্দ |
কান |
বর্ষা |
পানি |
পৃথিবী |
ঘ্রাণ |
নাক |
চৌম্বকশক্তি/মাধ্যকর্ষণ |
পৃথিবী |
পানি |
স্বাদ |
জিভ |
শব্দ |
আকাশ |
|
| |
উপরোক্ত তালিকা ও ছবি থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান, চক্রে নিহিত তথ্যাদি বুঝার জন্য সক্রিয় মনের প্রয়োজন। সক্রিয় মননশীলতার অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে জীবনের সঙ্গে যেহেতু পাঁচটি তত্ত্ব মন আর জীবনই আমাদের অস্তিত্বের কারণ। তত্ত্ববেত্তাদের শাস্ত্রীয় মতে পাঞ্চতত্ত্ব চারটি বিভিন্ন দিকে কীভাবে বিদ্যামান তা নীচের চিত্রের সাহায্যে বুঝানো হল।
চিত্র:
শাস্ত্রীয় মতে পাঞ্চতত্ত্ব চারটি বিভিন্ন দিকে কীভাবে বিদ্যমান তা নীচের চিত্রের সাহায্যে বুঝানো হল। |
| |
|