- চতুর্থপতি যদি ষষ্ঠভাবে থাকে হা হলে বাদ-বিবাদ বা মামলা-মকর্দমার পর অথবা মাতুল পক্ষ থেকে জাতকের বাড়ির অধিকার প্রাপ্তি হয়।
- বৃষ লগ্নে যদি চতুর্থভাবে সূর্য থাকে তবে অস্থায়িভাবে বাড়ি পাওয়া যায়।
- কর্কট লগ্নে যদি চতুর্থের বৃহস্পতি থাকে তবে জাতকের বাড়ি, জমি বাগান ইত্যাদি লাভ হয়।
- চতুর্থাধিপতি কেন্দ্র বা ত্রিকোণে শুভগ্রহ যুক্ত থাকলে উত্তম গ্রহের প্রাপ্তি হয়।
- লগ্নাধিপতি আর সপ্তমপতি যদি লগ্নে বা চতুর্থভাবে থাকে এবং শুভ গ্রহের দৃষ্টিযুক্ত থাকে তবে জাতকের নিশ্চিতভাবে গৃহপ্রাপ্তি যোগ হয়।
- নবমাধিপতি যদি কেন্দ্রে থাকে এবং চতুর্থপতি যদি স্বক্ষেত্রে অথবা মূলত্রিকোণে থাকে তা হলেও জাতকের সহজে বাড়ি বা জমি লাভ হয়।
- চতুর্থপতি যদি মেষ, কর্কট, তুলা ও মকর অর্থাৎ চর রাশিতে থাকে এবং শুভগ্রহ যুক্ত ও দৃষ্ট হয় তবে জাতকের একাধিক ভবনে বাস হয় অর্থাৎ ভবনপরিবর্তন হয়। এর বিপরীত চতুর্থপতি যদি স্থির রাশিতে থাকে যথা বৃষ, সিংহ, বৃশ্চিক ও কুম্ভ তা হলে জাতকের দীর্ঘস্থায়ী ভবনে বাস হয়।
- যদি জন্মকুণ্ডলীতে তৃতীয় স্থানের অধিপতি চতুর্থভাবের অধিপতির সঙ্গে থাকে তা হলে ভ্রাতা দ্বারা ভূমিপ্রাপ্তি হয়। কিস্তু এই যোগ যদি বিপরীতভাবে ক্ষেত্র বিনিময় করে তবে জাতক নিজের ভাইকে বাড়ির অধিকার দেয়।
|
| |
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে বাস্তু দোষ জানার উপায় |
| |
| বাস্তুশাস্ত্র সম্বন্ধে জানতে গেলে গৃহকর্তা, গৃহকর্ত্রী এবং যিনি গৃহের প্রধান রোজগার কর্তা এই তিনজনের জন্মছক থেকে বাস'দোষ সম্বন্ধে ধারণা করা যায়। সাধারণভাবে লগ্নের চতুর্থ স্থানের রাহু, মঙ্গল এবং রাহু শনি এই দু’গ্রহের যূথী বাস্তুদোষের দিকে ইঙ্গিত করে। কুণ্ডলীতে ‘কালসর্প’ দোষও বাস'দোষকে ইঙ্গিত করে। |
|
নবগ্রহ ও বাড়ির কোষ্ঠী:
নটি গ্রহের সঙ্গে বাড়ির স্থায়িত্বের সম্পর্কও বাস্তু মতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রহ কোন লগ্নে এবং কোন স্থানে অবস্থান করলে বাড়ি কত বছর স্থায়ী হয়, বাস্তু-জ্যোতিষশাস্ত্রীরা এ নিয়েও গণনা করেছেন। বাড়ি তৈরির সময় লগ্ন দশম, একাদশ স্থানে যথাক্রমে শুক্র, বুধ ও রবি এবং বৃহস্পতি কেন্দ্রস্থলে থাকলে বাড়ি টিকে থাকবে শত বছর। চতুর্থ ঘরে বৃহস্পতি, দশমে চন্দ্র ও একাদশে শনি বা মঙ্গল হলে বাড়ি আশি বছর থাকবে।
বাড়ি তৈরির সময় বৃহস্পতি, রবি, বুধ, শুক্র ও শনি এগুলি যথাক্রমে লগ্নের ষষ্ঠ, সপ্তম, চতুর্থ ও তৃতীয় স্থানে থাকলে সে বাড়ি টিকবে একশো বছর। লগ্নে শুক্র, তৃতীয়তে রবি, ষষ্ঠ ঘরে মঙ্গল ও পঞ্চমে বৃহস্পতি থাকলে সে বাড়ি দুশো বছর টিকবে। গ্রামই হোক অথবা শহর, লগ্নে চন্দ্র, সপ্তম ঘরে বৃহস্পতি, দশম ঘরে বুধ অথবা শুক্র থাকলে, বুধ যদি একই লগ্নে থাকে, তা হলে বাড়ি করলে ছয় শত বছর স্থায়ী হয়। যদি লগ্নে শুক্র, বৃহস্পতি নির্দিষ্ট রাশিতে অর্থাৎ সপ্তম ঘরে থাকে তা হলে বাড়ির মালিক দীর্ঘজীবী হবেন এবং বাড়ি টিকে থাকবে আটশো বছর। লগ্নে রবি, সপ্তম ঘরে বৃহস্পতি, দশম ঘরে চন্দ্র- এরকম অবস্থায় বাড়ি করলে তা টিকে থাকবে সহস্র বছর অর্থাৎ এক হাজার বছর।
উচ্চ কর্কটরাশির বৃহস্পতি চতুর্থ ভাগে অথবা শনির একাদশ স্থানে তুলা থাকা অবস্থায় বাড়ি করলে সেই বাড়িতে আজীবন ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকে অর্থাৎ ধনসম্পদে ভরে থাকে।
বাস্তুশাস্ত্রীকেও প্রয়োজনে জ্যোতিষের সাহায্য নিতে হয়। বাস্তুশাস্ত্রী কোনও জমিতে বাড়ি তৈরির পূর্বে সেই ভূমি জীবিত না মৃত তা প্রথমে নির্ণয় করেন। তারপর তিনি ভূমির শয়ন ও জাগরণ নির্ধারণ করেন। এই সমস্ত কিছুই জ্যোতিষবিদ্যার সাহায্য ব্যতিরেকে অসম্ভব। যিনি বাড়ি তৈরি করবেন তাঁর কোষ্ঠী অনুসারে বাড়ির মূখ্য দ্বারের দিক, ভবন ক্রয় বা জমিতে ভবন নির্মাণ শুরুর দিন, গৃহপ্রবেশের শুভদিন, তিথি-মুহূর্ত ইত্যাদি নির্দিষ্ট করা দরকার।
বাস্তুশাস্ত্র মতে গ্রাম চয়ন, দিক চয়ন, কূপ খনন, হলকষর্ণ, বীজ বপন, বীজ রোপণ, গৃহনির্মাণ, দ্বার চয়ন, গৃহপ্রবেশের মুহূর্ত প্রভৃতি জ্যোতিষের ভিত্তিতেই করা হয়। সুতরাং জ্যোতিষশাস্ত্র ও বাস'শাস্ত্র অঙ্গাঅঙ্গিভাবে একে অপরের সম্পর্কযুক্ত ও পরিপূরক। |
| |
| |
|