বিভিন্ন ধরণের জমি
 
১৯। ব্রাহ্মণ বাস্তু : যখন ভূমি ঈশাণ, আগ্নেয় ও নৈর্ঋত দিকে উঁচু এবং বায়ব্য দিকে সব থেকে নিচু তখন সেই জমি হবে ব্রাহ্মণ। এ জমি অশুভ ফলদায়ী।
 
২০। শাণ্ডুল বাস্তু : যে ভূমি ঈশান দিকে উঁচু এবং আগ্নেয়, নৈর্ঋত ও বায়ব্য দিকে নিচু, সেই ধরণের ভূমি হল শাণ্ডুল বাস্তু। এই বাস্তু অশুভ ফল প্রদানকারী।
 
২১। স্থাবর বাস্তু : যে ভূমি শুধু আগ্নেয় দিকে উঁচু এবং নৈর্ঋত, বায়ব্য ও ঈশান দিকে নিচু, তাকে স্থাবর বাস্তু বলা হয়। এ হল শুভ ফল দায়ক।
 
চিত্র:
 
২২। স্থণ্ডিল বাস্তু : যে ভূমি শুধু নৈর্ঋত দিকে উঁচু এবং বায়ব্য, ঈশান ও আগ্নেয় এই তিন দিকে নিচু, তাকে বলা হয় স'ণ্ডিল বাস্তু। এও শুভ ফলদায়ী।
 
২৩। সুসন্তান বাস্তু : যে ভূমি আগ্নেয়, দক্ষিণ ও নৈর্ঋত দিকে উঁচু এবং উত্তর দিকে নিচু তা হল সু্সন্তান বাস্তু। এ রকম ভূমি ব্রাহ্মণ, বিদ্বান ও অধ্যাপকদের পক্ষে শুভ।
 
২৪। সুতল বাস্তু : ভূমি যদি নৈর্ঋত, পশ্চিম ও বায়ব্য দিকে উঁচু থাকে এবং পূর্ব দিকে নিচু থাকে তা হলে সেটি সুতল বাস্তু। এই ভূমি দেশ বা রাজ্যের পক্ষে সমৃদ্ধশালী হয়। এ ধরণের ভূমি ক্ষত্রিয়, শাসক ও প্রশাসকদের পক্ষে অনুকূল।
 
চিত্র:
 
২৫। চর বাস্তু : যে ভূমি বায়ব্য, উত্তর ও ঈশাণ দিকে উঁচুতে থাকলেও দক্ষিণ দিকে সব থেকে নিচু থাকে তাকে চর বাস্তু বলা হয়। এ ধরণের ভূমি বৈশ্য ও ব্যবসায়ী শ্রেনীর পক্ষে অনুকূল।
 
২৬। শ্বমুখ বাস্তু : ভূমি যখন ঈশান, পূর্ব ও আগ্নেয় দিকে উঁচু থাকে, পশ্চিম দিকে নিচু তখন তাকে শ্বমুখ বাস্তু বলা হয়। এ ধরণের জমি সমাজের নিম্ন ও দুর্বল শ্রেণীর পক্ষে অনুকুল।
 
চিত্র :
 
জমির ঢালের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি : বাস্তুশাস্ত্রে জমির ঢাল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে জমির ঢাল যেন একই দিকে থাকে। এবং তা উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়াই বিধেয়। বাস্তুশাস্ত্র যে বিজ্ঞানভিত্তিক তার উত্তর পাওয়া যায় জমির ঢাল উত্তর-পূর্ব দিকে রাখার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়। জমির ঢাল উত্তর-পূর্ব দিকে রাখা অত্যন্ত উপকারী। কেননা উত্তর-পূর্ব দিকে ঢাল করলে সমস্ত জমির পানি উত্তর-পূর্ব দিকে সঞ্চিত হবে। এই সঞ্চিত পানি ধীরে ধীরে মাটির গভীরে প্রবেশ করবে। আর উত্তর-পূর্ব দিকে বাস্তু শাস্ত্র মতে পাতকুয়া, টিউবওয়েল, পুকুর ইত্যাদির অবস্থান নির্দেশ করেছে। মাটির গভীরে সঞ্চিত পানি প্রবেশের কারণে পানির উৎসগুলির পানিস্তর কখনওই কমবে না। আবার উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা সূর্যরশ্মির মধ্যে যে লাল উজানি রশ্মি আছে সেই রশ্মি উত্তর-পূর্ব দিকে থাকা পানি শোষণ করে। পানি সেই শোষিত লাল উজানি রশ্মি দুপুরের পর থেকে বিকিরিত করে।
 
আবার জমির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকটি উঁচু হওয়া উচিত। কেননা ওই দিক উঁচু থাকলে পানি উত্তর-পূর্ব দিকে গড়িয়ে যায়। আবার পৃথিবী সর্বক্ষণ ২৩০১/২ ডিগ্রী উত্তর-পূর্ব দিকে কাত হয়ে ঘোরে। সেই কারণেও জমির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক্‌ উঁচু হবে এবং উত্তর-পূর্বদিক্‌ নিচু থাকবে।
 
আয়ূর্বেদশাস্ত্রেও বলা হয়েছে যে এমন জমিতে বাস করা স্বাস্থ্যকর যার ঢাল উত্তর ও পূর্বদিকে আছে। এবং অবশ্যই পূর্ব ও উত্তর উম্মুক্ত থাকবে।
 

আটটি দিকের গুরুত্ব :

 
বাস্তু বিজ্ঞান অনুসারে মানবজীবনে আটটি দিকের প্রভাব অবশ্যম্ভাবী।
 
১।
কোনও ভবন নির্মাণ করানোর সময় অতি অবশ্যই র্পূব দিক্‌টি খোলা ও ফাঁকা রাখতে হবে। পূর্ব দিক্‌টি হল পৈতৃক সন্তান। পূর্ব দিক্‌ খোলা না রাখলে পিতৃপক্ষের হানি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২।
আগ্নেয় দিক্‌ মানবজীবনের স্বাস্থ্য প্রদান করে।
৩।
দক্ষিণ ধনধান্য, সমৃদ্ধি, প্রসন্নতা ও শান্তি দেয়।
৪।
নৈঋত নিজের আচারবিচারের জন্য দায়ী হয়। নৈঋতে কোনও রকমের গুরুতর দোষ রাখা অকালমৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানোর সমান।
৫।
পশ্চিম দিক্‌ সাফল্য, যশ ও ভদ্র ব্যবহার প্রদান করে।
৬।
বায়ব্য দিক্‌ অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত করে। বন্ধুত্ব ও শত্রুতা উভয়ই এর মধ্যে আছে।
৭।
উত্তর দিক্‌ হল মাতৃসন্তান। বাড়িতে উত্তর দিকে ফাঁকা সন্তান না ছাড়লে মাতৃপক্ষের হানির আশঙ্কা থাকে।
৮।
ঈশানে কোনও প্রকারের দোষ, কাটছাঁট হওয়া উচিত নয়। ঈশান বংশবৃদ্ধিকে স্থায়িত্ব প্রদান করে।
 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.