বাস্তুমতে দিক জ্ঞান
 
আমরা যদি পূর্ব দিক্‌টিকে ৯টি ভাগে বিভক্ত করি তা হলে পূর্বের দুটি ভাগ উত্তর ও উত্তর-পূর্ব হয়ে যাবে। পশ্চিমের দুটি অংশ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম হয়ে যাবে। কেন্দ্রবর্তী ৫টি অংশ উত্তর দিক্‌ বলে গণ্য হবে এবং চক্রনাভির একটি সমান ভাগ এই ৫টি অংশে মিশে যাবে।
 
যদি পশ্চিমকে ৯টি সমান ভাগে ভাগ করা হয় তা হলে পূর্ব হয়ে যাবে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব কেন্দ্রে অবস্তিত ৫টি চক্রনাভিযুক্ত তা মিশে যাবে এবং দক্ষিণ দিক্‌ বলে গণ্য হবে।

এরকমভাবেই প্রতিটি দিকের ৯টি অংশ। মূখ্য অংশের ৪টি অংশ মধ্যবর্তী দিকে ৪টি অংশ এবং ১টি অংশ চক্রনাভির সঙ্গে যুক্ত।

অঙ্কের মাধ্যমে এটা প্রমাণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রেও পূর্বের চিত্রের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। নীচে বিষয়টিকে সে রকমভাবেই দেখানো হল। যদি আমরা একটি মূখ্যদিকের ৯টি স্প্যানকে অপর একটি মূখ্যদিকের ৯টি স্প্যানের সঙ্গে গুণ করি তা হলে আমরা পাব ৮১টি বর্গ অথবা সমান স্প্যানের আয়তাকার।
 
উত্তর-পূর্ব - ২ X ২ = ৪ দক্ষিণ-পশ্চিম - ২ X ২ = ৪
পূর্ব - ৪ X ৪ = ১৬ পশ্চিম - ৪ X ৪ = ১৬
দক্ষিণ-পূর্ব - ২ X ২ = ৪ উত্তর-পশ্চিম - ২ X ২ = ৪
দক্ষিণ - ৪ X ৪ = ১৬ উত্তর - ৪ X ৪ = ১৬
  চক্রনাভি - ১ X ১ =১
 
সব মিলিয়ে ৮১টি বর্গ দুটি চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হল।
 
পুরাতন মত
 
চিত্র:

আধুনিক মত
 
চিত্র:
 

কম্পাসের ব্যবহার ও চৌম্বকধর্ম

 
চুম্বকত্বের শক্তি এমনিতে দেখা যায় না। কিন্তু চুম্বক যখন কোনও ধাতুর টুকরোকে নিজের শক্তির দ্বারা টেনে আনে বা আকর্ষণ করে সেটা কিন্তু সকলেই পরিষ্কারভাবে দেখতে পায়। একটি পদার্থ যা লোহা-সহ অন্য কয়েকটি ধাতুকে আকর্ষণ করে তাকে চুম্বক বলে। প্রতিটি চুম্বকে দুটি দণ্ড থাকে যাতে চৌম্বকীয় তত্ত্ব থাকে। যে এলাকায় চৌম্বকীয় শক্তি প্রভাব বিস্তার করে তাকে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বা ‘ম্যাগনেটিক ফিল্ড’ বলা হয়। এই পৃথিবীটাই একটা বিশাল চুম্বক। এর চৌম্বকীয় দণ্ড দুটি হল ভৌগলিক উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু। একটি চৌম্বকীয় দণ্ড পৃথিবীর উত্তর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে আকর্ষণ করে, অপর দণ্ডটি দক্ষিণের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে আকর্ষণ করে।

ভৌগলিক উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পৃথিবীর অক্ষরেখায় অবস্থান করে এবং এই অক্ষরেখাকে কেন্দ্র করেই পৃথিবী ঘুরছে। এই রেখা অবস্থানই পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে বোঝাচ্ছে। যে স্থানগুলি এই রেখাগুলির কাছাকাছি এসেছে সেই স্থানটি সব চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

দিক্‌নির্ণয় যন্ত্র বা কম্পাস:

একটি কম্পাস বিভিন্ন দিক নির্ণয় করে। প্রায় এক হাজার বছর আগে আরবের নাবিকরাই প্রথম কম্পাস বা ম্যাগনেটিক কম্পাসের ব্যবহার শুরু করেছিলেন। এই ম্যাগনেটিক কম্পাসের ভিতরে একটি কাঁটা থাকে। এটি অনায়াসে একদিক থেকে আর একদিকে ঘোরে।

কম্পাস ব্যবহারের নিয়ম:

অনন্তপক্ষে ২ ইঞ্চি ব্যাসের উন্নতমানের কম্পাস হাতে নিয়ে ৩৬০ ডিগ্রী চক্রাকার স্কেলটি দেখতে হবে। কম্পাসে ইংরাজি 'N' বুঝায় নর্থ অথবা উত্তর , 'S' বুঝাচ্ছে সাউথ বা দক্ষিণ অনুরূপে 'E' ইষ্ট বা পূর্ব 'W' ওয়েস্ট বা পশ্চিম, 'SE' সাইথ-ইস্ট বা দক্ষিণ-পূর্ব, 'NE' নর্থ-ইস্ট বা উত্তর-পূর্ব, 'SW' সাউথ-ওয়েস্ট বা দক্ষিণ-পশ্চিম এবং 'NW' নর্থ ওয়েস্ট বা উত্তর-পশ্চিম। এইভাবে কেন্দ্রবিন্দু থেকে ৮টি দিকে রেখা চলে গিয়েছে। এর যে কোনও দুটি মধ্যস্ত কোণ হবে ৪৫ ডিগ্রী।

চিত্র:

 
উত্তর দিক্‌ নির্ণয়ে কম্পাস ব্যবহার বিধি:

কম্পাস ব্যবহার করে জমির উত্তর দিক্‌ খুঁজে বের করার আগে জমির মোটামুটি মাঝখানে ৮ ইঞ্চি X ৮ ইঞ্চি স্থানটি পরিষ্কারের পরে সমতল করে নিয়ে তাতে কম্পাসটি রাখতে হবে। দেখা যাবে কম্পাসের মধ্যস্থলে অবস্থিত কাঁটাটি এ দিক ও দিকে ঘুরতে ঘুরতে কাঁটার মাথায় অবসি'ত লাল চিহ্নিত একটি বিশেষ স্থানে এসে থেমে যাবে। তখন আস্তে আস্তে কম্পাসটা এরকমভাবে ঘোরাতে হবে যাতে N লেখা অক্ষরটা লাল চিহ্নের তলায় চলে যায়। এতে দেখা যাবে কাঁটা উত্তর-দক্ষিণ দিকে অক্ষাংশে চলে গিয়েছে এবং লাল চিহ্নযুক্ত দিক্‌টিও চৌম্বকীয় উত্তরের দিকে চলে গিয়েছে।
 
 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.