বাস্তুমতে দিক জ্ঞান
 
ভূখণ্ডের বিভাজন :
 
বাস্তুর জন্য ব্যবহৃত ভূখণ্ডকে সাধারণত আটটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। তবে বাড়ি করার জন্য সর্বদাই যে সুষম আকারের জমি মিলবে তা নয়। জমি বিষম আকারেরও হতে পারে। তাই বিষম আকারের জমিকে কৌণিক বিভাজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দিক নির্ধারণ করলে তবেই বাড়ির বিভিন্ন ঘর বাস্তুসম্মতভাবে কোথায় হওয়া উচিত তা জানা যাবে। নীচে আটটি এবং ষোলটি অংশে বিভাজন দেখানো হল।
 
চিত্র:
 
এখনও পর্যন্ত যে সব চিত্র দেখানো হয়েছে সেগুলি উত্তর-দক্ষিণ সমান্তর কোণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহারের সময় দেখা যায় অধিকাংশ ভূখণ্ড সমান্তর হয় না। সুতরাং, দিক্‌ নির্ণয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। বাস্তুশাস্ত্রে দিক্‌ নির্ণয় করার বেশ কয়েকটি প্রাচীন পদ্ধতি আছে। কিন্তু বর্তমানে কম্পাস দিয়ে দিক্‌ নির্ণয় করা অত্যন্ত সহজ এবং দ্রুতভাবে হয়। সুতরাং, প্রাচীন পদ্ধতিগুলির ব্যবহার আর হয় না। যে কেউ কম্পাস দিয়ে অনায়াসে দিক্‌ নিণয় করতে পারেন।
 
দিক্‌ পরীক্ষা ও নির্ধারণ:
 
ভবন নির্মাণে দিক্‌ শোধন করা অনিবার্য। দিক্‌ শোধনের অভাবে দিকের যথার্থ জ্ঞান না থাকার দরুণ নির্মাণ কার্যের সময় ঘর এবং দ্বার ইত্যাদিতে ত্রুটি হওয়ায় সম্পুর্ণ ভবনটির অবস্থান বদলে যাবে। আর বাস'শাস্ত্র অনুসারে যে দিকে যে দ্বারের স্থান নির্ধারণ করা হবে সেগুলি সব বিপরীত অবস্থানের জন্যই হতে পারে। শাস্ত্রেও দিক্‌ শোধনের প্রয়োজনের উল্লেখ পাওয়া যায়।

মসজিদ, রাজপ্রাসাদ, গৃহ, দরজা এবং দ্বারের বাইরে বারান্দা, পুকুর ইত্যাদির জন্য দিক্‌ জানার উদ্দেশ্য যথার্থ দিক্‌ নির্ণয় করা জরুরি। সুতরাং, শাস্ত্র অনুসারে পূর্ব-পশ্চিম ইত্যাদি দিক্‌ নির্ধারণের পর তবেই সংশ্লিষ্ট জমিতে ভবন নির্মাণ করা দরকার। শঙ্কুরোপণ-এর মাধ্যমে ছায়ার ভিত্তিতে ধ্রুবতারা অনুসারে এবং নক্ষত্রবোধের ভিত্তিতে প্রাচীন গ্রন্থে দিক্‌ শোধনের উল্লেখ পাওয়া যায়।

আধুনিককালে বাস'শাস্ত্রীরা কম্পাস দিয়ে চৌম্বকীয় ভত্তিতে দিক্‌ নির্ণয় করে প্রয়োজনে দিক্‌ সংশোধন করে নেন। অতএব দিক্‌ শোধন করার পরও ভবন নির্মাণ করার দরুণ ভবনে তৈরী ঘর ও দ্বার ইত্যাদির যথার্থ দিক্‌ নির্ধারণ করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে বাস'শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞেরা বাড়ি তৈরী হয়ে যাওয়ার পর দিক্‌ নির্ণয় করে ওই সব সুন্দর বাড়ি ঘরের কাটছাঁট ও পরিবর্তন করেছেন। এ এক বিরাট সমস্যা। এমনটি হওয়া উচিত নয়। এই সমস্যার সমাধান বাড়ি তৈরী হওয়ার আগেই হওয়া উচিত। দিক্‌ সংশোধন করে ঠিকভাবে বাস'শাস্ত্রের সিদ্ধান্তগুলি মেনে তবেই বাড়িঘরের নির্মাণ কাজ শুরু করা উচিত। প্রবেশদ্বার ও বাতায়ন ইত্যাদি ছাড়াও প্রতিটি ঘর ঠিক দিকে তৈরি করতে হবে। আর তা করলে বাস্তুসংক্রান্ত কোনও রকমের সমস্যা দেখা দেবে না। এতে বাড়ির কর্তাসহ সকলেই সুখ ও সৌভাগ্য লাভ করবেন। এমনকি বাড়ির ভৃত্যসহ পশুপাখিও থাকবে সুখে। (মুসলমানদের বাড়িতে পশু-পাখি না রাখাই সর্বাত্তম তবে গ্রামে রাখা যাবে।)

বাস্তুশাস্ত্র মতে মানুষের উপর দিকের প্রভাব:
 
দিক্‌
প্রভাব
পূর্ব বংশ, পৈতৃক সম্পর্কীয়
উত্তর মাতৃ সম্পর্কীয়, বুদ্ধি ও চাতুর্য
দক্ষিণ সমৃদ্ধি ও শান্তি, নিরুপদ্রব জীবন
পশ্চিম নাম, যশ ও অবস্থার উন্নতি
উত্তর-পূর্ব (ঈশান) বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
দক্ষিণ-পূর্ব (আগ্নেয়) শারীরিক ও মানসিক স্থৈর্য, শক্তি ও উদ্দীপনা
দক্ষিণ-পশ্চিম (নৈঋত) দীর্ঘজীবন ও লোক ব্যবহার কৌশল
উত্তর-পশ্চিম (বায়ব্য) পরস্পরের সঙ্গে মৈত্রী ও শান্তি
 
চারটি মধ্যবর্তী দিকের প্রত্যেকটিকে দুটি সমানভাগে ভাগ করা যেতে পারে। নিচের চিত্রে সেটা দেখানো হয়েছে।
 
চিত্র:
 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.