বহুতল ভবনের বা এ্যাপার্টমেন্টের বাস্তুশাস্ত্র বিধান
 
চিত্র:
 
৯/১
             
             
             
             
             
             
             
৯/১ ৯/১
 
  • সবুজ দাগ সমূহ   টিক মার্ক মেইন গেট, স্বর্ণালী দাগগুলি গৃহ প্রবেশের মূখ্যদ্বার করতে হবে। জমির দৈর্ঘ্য প্রস্থ মেপে দ্বার প্রকরণ ঠিক করবেন। আমাদের এ কথা ভুললে চলবে না, যে মেইন গেট এবং মূখ্যদ্বার যদি আমরা সঠিক স্থানে স্থপন করতে না পারি তবে উক্ত ভবন বা বাড়ীতে ঋণাত্বক শক্তি বেশী থাকবে এবং একের পর এক দুঃখ দূর্দশা আমাদেরকে ভোগ করতে হবে।
  • পক্ষান্তরে আমরা যদি চিত্রানুযায়ী বাস্তুশাস্ত্র সম্মতভাবে প্রধান গেট ও ফ্ল্যাটে প্রবেশের মূখ্যদ্বার স্থাপন করি তবে ধণাত্বক শক্তির সক্রিয় প্রভাব আমাদের বা বসবাসকারীদের উপর বর্ত্তাবে এবং গৃহস্থ্যের ঘর ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকবে যদি আভ্যন্তরীণ সকল নির্মাণ শাস্ত্রসম্মতভাবে হয় তবে। এই লেখা পড়ে কোন প্রকার ব্যঙ্গাত্বক, বা বিরূপ মন্তব্য করার পূর্বে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী, নিজেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রেখে চিন্তা করুন- মেইন গেট ও মূখ্য প্রবেশ দ্বার এবং আপনার পারিবারিক অবস্থা, দেখবেন আমি যা লিখলাম তা এক বিন্দুও প্রমাদযুক্ত নয়।
  • গৃহ প্রবেশের মূখ্যদ্বার খুব শক্ত, পুরু ও বাস্তুশাস্ত্রানুযায়ী শুভ বৃক্ষের নির্মাণ করা উচিত, গৃহের ভিতরের সকল দরজা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই। দরজা চৌকাঠ ও একই জাতীয় কাঠের হতে হবে। গৃহাভান্তরে দরজা জোড় সংখ্যার হতে হবে। প্রধান দরজার দৈর্ঘ্য যেন প্রস্থ্যের দ্বিগুণের বেশী হয়। প্রধান দরজা ভিতর থেকে ডান দিকে খুলবে অর্থাৎ Clockwise দরজা খোলা ও বন্ধের সময় যেন অতিরিক্ত শব্দ না হয়। শব্দহীন দরজা সর্বোত্তম। Please ধুড়-ম ধাড়-ম করে দরজা লাগাবেন না।
  • যতখানি সম্ভব, ঈশাণ, নৈঋত কোণ রান্নাঘরের জন্য অবশ্যই বর্জন করবেন। রান্নাঘর দক্ষিণ পূর্ব দিকের পূর্ব দক্ষিণ দিকে, অগ্নি কোণে সর্বোত্তম। এরূপ স্থান পাওয়া না গেলে বায়ু কোণ মন্দের ভাল। যিনি রান্না করবেন তাঁর মুখ থাকবে পূর্ব দিকে। রান্না ঘরে এডজাস্ট পাখা বসালে তা বসাতে হবে পূর্বে বা দক্ষিণে। পশ্চিম, দক্ষিণ দিকে আসবাব পত্র রাখার জন্য তাক তৈরী করে নিবেন। ভারী জিনিস নৈঋত কোণে রাখুন।
  • গোছলখানা বা বাথরুম পূর্ব দিকে নির্মাণ করতে হবে। ঈশাণ ও নৈঋত কোণে নির্মাণ করা যাবে না। গোছল করার সময় মুখ যেন থাকে পূর্ব দিকে, বেসিন বসালে এমন ভাবে বসাতে হবে যাতে করে দর্পন থাকে পূর্ব অথবা দক্ষিণ দিকে। গোছলখানা, শৌচাগার কোনক্রমেই রান্নাঘর, খাওয়ার ঘর সংযুক্ত ও বিপরীত দিকে যেন না থাকে। শৌচাগার বা বাথরুম থেকে খাওয়ার ঘর যেন সরাসরি দেখা না যায়। গোছল খানার পানি ঈশান কোন দিয়েই নির্গত হবে। শৌচাগার যদি গোছলখানার ভিতরেই হয় তবে প্যান বাথরুমের মেঝে থেকে আড়াই ফিট উঁচুতে বসাতে হবে। কমোড তো এমনিতেই উঁচু। শৌচাগারের দরজা প্লাষ্টিক বা এ জাতীয় ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরী করে বসালে চলবে। তবে ধাতব দরজা পরিত্যাজ্য।
  • খাওয়ার জায়গা যেটাকে আমরা ডাইনিং রুম বা হল বলি, সেটা থাকবে পশ্চিম দিকে, খাওয়ার টেবিল এমন ভাবে বসাতে হবে যাতে করে খাওয়ার সময় মুখ থাকে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে। খাওয়ার স্পেস থেকে শৌচাগার, বাথরুম যেন দেখা না যায়।
  • প্রধান শোবার ঘর নৈঋত বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে নির্মাণ করতে হবে এবং এই রুমটি হবে কর্তা-কর্ত্রীর জন্য। অন্যান্য শোবার ঘর, বায়ু কোণে, উত্তর ও পূর্ব দিকে হবে। সব সময় শোবার সময় মাথা থাকবে দক্ষিণ দিকে।
  • বাংলাদেশের দক্ষিণে সাগর বিদ্যমান। তাই বারান্দা, ব্যলকনী দক্ষিণ দিকে নির্মাণ করা যাবে না। উত্তর, পূর্ব এবং ঈশাণ কোনেই নির্মাণ করতে হবে। বায়ু কোন মন্দের ভাল।
  • বহুতল ভবনের ছাদে যদি কোন কক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন বোধ করেন তবে তা দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, অথবা দক্ষিণে পশ্চিমে করবেন। অন্য দিক ও কোণে নির্মাণ করবেন না।
  • ঈশান কোণ, উত্তর, পূর্বদিকে জমি ফাঁকা রাখতে হবে অপেক্ষাকৃত অন্যান্য দিক ও কোণের তুলনায়। কিন্তু এত বহুতল ফ্ল্যাট বাসী বিশেষ কাজে লাগাতে পারবেন না, যদি আপনি এই ফাঁকা ও খোলা জায়গায় কিছু করতে চান, তবে ঈশাণ কোণে সর্বোত্তম, পানির ফোয়ারা করা, যদি রঙ্গিন পানির ফোয়ারা করেন তবে রঙ্গীন পানি যেন সোনালী বা হলুদ বর্ণের হয়। আবার সুন্দর ঘাসের লনও করতে পারেন। কিন্তু তুলসী গাছ ব্যতীত অন্যান্য গাছ লাগানো যাবে না। আপনি আপনার ফ্ল্যাট-এর অথবা বাড়ীর দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে এবং নৈঋত কোণে উঁচু বড় গাছ পাতা বাহার গাছ, বা এই দিক ও কোণে রকগার্ডেনও করতে পারেন।
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.