বাস্তুশাস্ত্র অর্থাৎ স্থাপত্যবিদ্যা
 
 
একদিক দিয়ে বিচার করলে বিষয়টি খুব সহজ, অন্যদিক দিয়ে বিচার খুবই জটিল ও কঠিন। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিক ও কোণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা এবং সঠিক নির্মাণ স্থাপন ও আসবাবপত্র সঠিক দিকে সাজানো। বাস্তু নিয়ম পালন আবশ্যক এই জন্য যে মানব জীবনে ৫০% ভাগ্য বাকী ৫০% বাস্তুর প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত। কোন কিছুর প্রাপ্তিতে প্রভাবিত হয় ভাগ্যের এবং ভাগ্য কর্মদ্বারা পরিচালিত হয়। বাস্তু বা বাড়ী, অফিস, কারখানা মানুষ নিজে নির্মাণ করে। সেটা যদি মানুষের কর্মদ্বারা স্বেচ্ছায় বা অজান্তে ৫০% ই ভুল হয় পরিণামে শান্তি স্থিতি হয় না। বাস্তু নিয়ম প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য মিলিত করে। বিশ্ব প্রকৃতির সৃষ্টি হয়েছে মাটি, পানি, আগুন, বায়ূ ও শূন্য অর্থাৎ আকাশ দিয়ে। এই জন্য বাস্তু নিয়ম পালনের উদ্দেশ্য সৃষ্টির পঞ্চ ভূতাত্ত্বক ব্যবস্থানে পীড়িত না করে মানব জীবনের সামঞ্জস্য স্থাপিত করা এবং সামঞ্জস্যকে শান্ত, শুভ ও সমৃদ্ধশালী করে রাখা। বাস্তু নিয়মে রান্না ঘর হবে অগ্নিকোণে, কিন্তু বায়ূকোণে, ঈষাণ ও নৈঋতকোণে রান্নাঘর থাকলে মানুষের সাথে সম্পর্কের অবনতি হবে। গৃহে অশান্তি বিরাজ করবে, অর্থ আগমণের পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে। যিনি রান্না করবেন-তার বেদনা-ব্যথা রোগ, ডায়াবেটিস ও দৃষ্টির স্বল্পতা দেখা দিবে। উক্ত গৃহে বিদ্যা প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটবে। গৃহকর্তা/কর্তীর চাকরি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দূর্যোগ আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ঈষাণ কোণে কর্তার শয়নকক্ষ থাকলে ব্যবসায় ক্ষতি, মানসিক অশান্তি রোগ ও কষ্ট, অগ্নিকোণে শোবার রুম থাকলে ক্রোধ বৃদ্ধি পাবে এবং স্ত্রীর সহিত ঝগড়া লেগে থাকবে। উত্তর দিকে বেড রুম থাকলে অশান্তি এবং অর্থহানী ঘটবে। দোষহীন বাস্তুতে (বাস্তু, বাড়ী, অফিস, কারখানা ইত্যাদি) বিবাহ উপযোগী সন্তানকে যদি বায়ূকোণের রুমে রাখা যায় দেখা যাবে খুব শীঘ্রই তার বিবাহের বাধা দূর হয়ে সূপাত্রে বিবাহের সম্ভাবনা। (আমার বহু গ্রাহকের ক্ষেত্রে বাস্তবে দেখেছি)। বাড়ীর অথবা বাসার উত্তর দিকে যদি ভারী কিছু রাখা হয় দেখা যাবে যে গৃহকর্তীর অসুস্থ্যতা বা মাথায় রোগ দেখা দিবে। পক্ষান্তরে পূর্ব দিকে যদি ভারী বস্তু রাখা হয় কর্তার অসুস্থ্যতা ও অর্থহানী ঘটবে। পূর্ব দিকে পড়ার রুম থাকলে বিদ্যা প্রাপ্তিতে চরম বাধার সৃষ্টি হবে। বাস্তু নিয়মে রাত্রিতে ঘুমাতে হবে দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে যাতে করে ভালভাবে রক্ত চলাচল হয়। পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্র উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগোলিক দক্ষিণ দিকেই অবস্থ ান করে।

ফলে চুম্বকের ক্ষেত্র প্রবাহিত হয় দক্ষিণ থেকে উত্তরে। মাথা যদি উত্তর দিকে থাকে তবে রক্ত মাথার দিকে প্রবাহিত হবে অর্থাৎ স্রোতের বিপরীতে সাতার কাটার মতো। উত্তর দিকে মাথা দিয়ে ঘুমালে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হিমোফিলিয়া, বেদনা-ব্যাথা রোগ, সিদ্ধান্তহীনতা ও মানসিক অশান্তি বৃদ্ধি পাবে। কেননা রক্তে লোহিত কণা বিদ্যমান যাহা ম্যাগনেটিক ফিল্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়। দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে ঘুমালে রোগ নাশ ও অর্থের প্রাপ্তি ঘটে। পশ্চিমে মাথা দিয়ে ঘুমালে প্রবল চিন্তার উদ্বেগ হয়। পৃথিবী একটি বৃহৎ চুম্বক। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীস্থিত যাবতীয় বস্তুর উপর। তাই এর চৌম্বকীয় প্রভাবও খুব স্বাভাবিক। মানুষের উপর দু’ধরণের শক্তি বা এনার্জির প্রভাব পড়ছে প্রতিনিয়ত (১) সৌর শক্তি বা সোলার এনার্জি (২) চৌম্বক শক্তি বা ম্যাগনেটিক ফোর্স। প্রথম শক্তি কাজ করছে পূর্ব দিক থেকে এবং দ্বিতীয় শক্তি কাজ করছে উত্তর দিক থেকে। আমরা সকলে জানি যদি কোন বস্তুর উপর সমকোণে (৯০ফ্র) দু’টি শক্তি কাজ করে তা হলে রেজাল্টট্যান্ট ফোর্স বা কার্যকরী শক্তি কাজ করে ঠিক (৪৫ফ্র) কোণ থেকে।এক্ষেত্রে সেই রেজাল্টট্যান্ট ফোর্স কাজ করবে তা হলে উত্তর পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। এই কারণে বাস্তু শাস্ত্রানুযায়ী প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হলো-বাড়ী, অফিস, ফ্যাক্টরী ও ফ্ল্যাটের উত্তর এবং পূর্ব দিক খোলা, ফাঁকা তৎসঙ্গে নীচু রাখতে হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক করে দিতে হবে আবদ্ধ ও ভারী। ফলশ্রুতিতে বেশি মাত্রায় এনার্জী লাভ করবে স্ব-স্ব ক্ষেত্রের মানুষ এবং এর ফলে আমরা অতি উপকারী লাল উজানী রশ্মি প্রাপ্ত হবো। উপরের উদাহরণ থেকে বুঝতে পারছেন যে সূর্যের কিরণ হচ্ছে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক বিকীরণ-ফলে বাস্তুদোষ থাকলে সহজে সাফল্য আসে না এবং ভোগ করতে হয় নানা দুর্দশা, রোগ-ব্যাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানী যত দ্রুতগতিতে উন্নতি করেছে তা অন্য কোন দেশ করতে সক্ষম হয়নি এই জন্য যে জার্মানীর প্রায় প্রতিটি স্থাপনা বাস্তুশাস্ত্রের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর আধারিত যাহা বিশ্ব সংসারকে আশ্চর্যমন্ডিত করেছে। বলে রাখা প্রয়োজন যে, এই শাস্ত্রের ভিত্তি হলো আমাদের চারপাশে থাকা প্রকৃতি বা পঞ্চভূত। আর হাজার হাজার বছর পূর্বে যখন এই শাস্ত্র রচিত হয়েছিল তখন প্রকৃতি যেমন ছিল আজও তেমনিই আছে। তাই সুপ্রাচীনকালে এই শাস্ত্র যতটা সিদ্ধ ও গ্রহণীয় ছিল, আজও ঠিক ততটাই সিদ্ধ ও গ্রহণীয়। মানুষ হল সামাজিক প্রাণী।
 
 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.