নিচের চিত্রের মাধ্যমে এটা পরিস্কার করে দেখানো হলো।
চিত্রঃ
ছেলের শোওয়ার ঘর : ছেলে যদি বিবাহিত হয় তা হলে তার শোওয়ার ঘরে অবস্থান হবে বাড়ির দক্ষিণ-পূর্বে। এটা যেহেতু আগ্নেয়-কোণ, সেহেতু বিবাহিত জীবনযাপনের পক্ষে সুখকর। ছেলে যদি অবিবাহিত হয় বা ছাত্রাবস্থায় থাকে তা হলে তাকে পূর্বে অথবা উত্তরের ঘরে শোওয়ার ব্যবসথা করে দিতে হবে। বিদ্যার্থীর মাথা পূর্ব, দক্ষিণ দিকে রেখে ঘুমানো শাস্ত্রসম্মত।
কন্যার শোওয়ার ঘর : কন্যার শোওয়ার ঘর হবে উত্তর-পশ্চিম দিকে কারণ জ্যোতিষ মতে এটি চন্দ্রের স্থান এবং সঙ্গীত ও কলার পক্ষে শুভ।
কিশোরের শোওয়ার ঘর : কিশোরদের শোওয়ার ঘর হবে পশ্চিম দিকে। শোওয়ার খাটকে ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রাখতে হবে। কিশোরদের মাথা পূর্ব, দক্ষিণ দিকে রেখে শোওয়া চলে। শোওয়ার খাট যেন দেওয়ালকে স্পর্শ না করে।
নামাজঘর : নামাজ ঘরের অবস্থান বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। এটা জ্যোতিষমতে বৃহস্পতির সথান এবং বৈজ্ঞানিক মতে এই দিক্ ধনাত্মক শক্তির প্রাচুর্যে ভরা। এই কারণে, ইবাদতের জন্য এই দিক্টি উৎকৃষ্ট স্থান। বিদ্যার্থীরাও এই দিক্কার ঘর ব্যবহার করতে পারে এবং যোগব্যায়াম বা সাধনা করার পক্ষে এই দিক্ উৎকৃষ্ট। যে সমস্ত মালিকানাযুক্ত ফ্ল্যাট বাড়িতে উত্তর-পূর্ব দিকে নামাজ ঘর নির্মাণ করার উপায় না থাকে তবে সেই সব স্থলে “ব্রহ্মস্থানে” ছোট করে নামাজ ঘর নির্মাণ করা যেতে পারে। (আলাদা অধ্যায়ে “ব্রহ্মস্থান” সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।)
অতিথিদের ঘর : অতিথিদের থাকার ঘরের অবস্থান হবে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে।
অসুস্থ্যদের ঘর : অসুস্থ্য ব্যক্তির ঘরের অবস্থান উত্তর-পূর্ব দিকে ভাল হয়। এতে সে তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে উঠবে এবং সুস্বাস্থ্য লাভ করবে।
শোকাতুর ঘটনা ঘটলে : মৃত ব্যক্তির জন্য বাড়ির পশ্চিম দিকের ঘর ব্যবস'া করতে হবে এবং মৃত ব্যক্তির ক্রিয়াকার্যাদি পশ্চিম দিকে করতে হবে, বিশেষত উঠোনে।
আঁতুড়ঘর : আগেকার দিনে বাড়ির মধ্যেই একটি পৃথক ঘরে শিশুর জন্ম হত। শিশু জন্মের আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট ঘরকে আঁতুড়ঘর ঠিক করে তাতে সন্তানসম্ভবা মহিলাকে রাখা হত। এখনও আমাদের দেশে পল্লি অঞ্চলে বাড়ির আঁতুড়ঘরেই শিশুরা ভূমিষ্ঠ হয়ে থাকে। তবে এই ব্যবস্থা দ্রুত পালটে যাচ্ছে। এখন শহরতলিতেও হাসপাতাল বা নার্সিং হোম অথবা মেটারনিটি হোমে শিশুদের জন্ম হয়। এখনকার ফ্ল্যাটবাড়ির সংস্কৃতিতে পৃথক আঁতুড়ঘর করার কথা ভাবাও অসম্ভব। তবে হাসপাতাল ও নাসিং হোম প্রভৃতির আঁতুড়ঘর উত্তর-পূর্বদিকে হলে মা-শিশু উভয়ের পক্ষেই ভাল। শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার স্থান উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়া উচিত। এতে শিশুর জন্ম হয় নির্ঝঞ্ঝাটে। ফ্ল্যাট বা বাড়িতে গর্ভবতী মহিলাদের উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরে থাকার ব্যবস'া করা ভাল। সন্তানসম্ভবা মায়েদের পক্ষে এ ধরণের ঘরে থাকা সব দিক্ থেকে ভাল। যদি কোনও ফ্ল্যাট বা বাড়িতে উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরে ব্যবস্থা না হয় তা হলে অন্ততপক্ষে উত্তর-পশ্চিম দিকের কোনও ঘর হলেও চলবে।
মেজেনাইন ফ্লোর : যদি মেজেনাইন-এর প্রয়োজন হয় তবে তা দক্ষিণ দিকে করা যেতে পারে।
বেসমেন্ট : যদি করতে হয়ে তবে বেসমেন্ট উত্তর-পূর্ব দিকে করা যেতে পারে। দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে কোনও মতেই হবে না।
বিবিধ : প্রত্যেকটি ঘরের মাঝখানে ভারী কোনও কিছু জিনিস রাখা যাবে না। কেবল খাওয়ার ঘরে খাওয়ার টেবিল রাখা যেতে পারে। আলমারি, দেওয়ালের র্যাক, আলনা ইত্যাদি ভারী জিনিসপত্র ঘরের দক্ষিণ, পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রাখতে হবে। |
| |
|