বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থানুসারে ষোলটি কক্ষ ও মাঝখানে উঠোনযুক্ত বাড়িকে উত্তম মনে করা হয়। নামাজের বা ইবাদতের কক্ষ হবে। পূর্বদিকে গোসলখানা ও পানিধার হবে। অগ্নিকোণে রান্নাঘর, বৈদুতিক সাজসরঞ্জাম রাখার ঘর করতে হবে। উত্তরে দামি বা বহুমূল্য জিনিসপত্র রাখার ভাণ্ডার ও ধনসম্পদ রাখা যেতে পারে। অগ্নিকোণে ও পূর্বদিকের মাঝখানে ঘি, তেল, দধিমন্হন ঘর হওয়া উচিত। এই ধরণের বাড়িকে উত্তম বলা হয়েছে।
পশ্চিম দিকে খাওয়ার ঘর হবে। পশ্চিম ও নৈর্ঋত দিকের মাঝখানে পড়ার ঘর অথবা অতিথি কক্ষ করা উচিত। বায়ব্য দিকে পশুশালা, রথ বা বাহন রাখার জায়গা করতে হবে। পশ্চিম ও উত্তরের মধ্যে রোদনগৃহ বা শোককক্ষ তৈরি করা যেতে পারে। নৈর্ঋত দিকে পাদুকা রাখতে হবে। নৈর্ঋত ও পশ্চিম দিকের মাঝখানে শৌচাগার নির্মাণ করা যেতে পারে। পশ্চিম দিকে ছোট ছেলেমেয়েদের থাকার ঘর করা উচিত। বায়ব্য দিকে কুমারী মেয়েদের থাকার ব্যবস্থ থাকবে। কারণ এই রকম ঘরে কুমারী মেয়ে থাকলে তার বিবাহে বিলম্ব দোষ কেটে যাবে।
|
| |
| বাস্তু দিক্দর্শন |
| |
| চিত্র: |
| |
আধুনিক যুগে জমির অভাব, বড় বাড়ি তৈরি করাও প্রায় অসম্ভব। তবে ষোল ঘরের বাড়ি আজকের দিনে কল্পনা করাও বৃথা। ষোলকক্ষযুক্ত বাড়ি সম্ভব না হলে এগারো কামরা, নয় কামরা, সাত কামরা, পাঁচ কামরাযুক্ত বাড়ি করা যেতে পারে। তাও যদি সম্ভব না হয় তা হলে অন্ততপক্ষে তিন কামরার বাড়িও ভাল। এই প্রেক্ষিতে আধুনিক প্রয়োজনের কথা মনে রেখে আদর্শ বাড়ির জন্য বিভিন্ন অনুকুল দিক্ ও অন্যান্য পরামর্শের কথা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুসারে এই সব দিক্ ও পরামর্শ অনুসরণ করে অবশ্যই লাভবান হওয়া যায়।
বাড়ি তৈরি : জমির উত্তর-পূর্ব কোণে ভূমির দোষ উদ্ধার করা উচিত। শাস্ত্রমতে দোষ বা ক্রুটি সম্পন্ন করার পরই প্রথম খনন শুরু করা কর্তব্য। চারদিকের জমিকে প্রথমে সমান ভাবে চৌরস করে নিতে হবে। এরপর জমির ঢাল রাখতে হবে উত্তর-পূর্বে। ভিত্তিপ্রস্তর চান্দ্রমাস অনুসারে উপযুক্ত দিকে বিশেষ অনুষ্ঠান পূর্বক স্থাপন করতে হবে। সে সম্বন্ধে অভিজ্ঞ জ্যোতিষ ও বাস্তুশাস্ত্রবিদের মতানুসরণ করা উচিত। নির্মাণ কাজ প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব দিক্ থেকে শুরু করতে হবে। পূর্ব এবং উত্তরে বেশি জায়গা ছাড় দিতে হবে। দক্ষিণ এবং পশ্চিম সীমানার পাঁচিল উত্তর ও পূর্ব দিকের চেয়ে উঁচু আর মোটা করতে হবে। মূল বাড়িটি রাস্তার তল থেকে কমপক্ষে দু ফুট উঁচু করে করা উচিত।
মনে রাখা দরকার যে প্রথম খনন করার সময় শুভ মুহূর্ত অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য। পর্যায়ক্রমে সর্বপ্রথম উত্তর-পূর্ব, তারপর উত্তর-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পরিশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এইভাবে খনন করা উচিত।
ভিত্তিপ্রস্তর : বাস্তু বিশেষজ্ঞ ও জ্যোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা উচিত। প্রথম খননের ঠিক বিপরীত নিয়মে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। যথা: পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম ও পরিশেষে উত্তর-পূর্ব।
সীমানা প্রাচীর : বাড়ির চারদিকে সীমানা প্রাচীর হওয়া বাঞ্ছনীয়। সীমানা প্রাচীর এবং মূখ্য বাড়ির মাঝখানে যেন ছাড় থাকে। সীমানা প্রাচীরের পশ্চিম দিকের দেওয়াল পূর্ব দিকের দেওয়ালের চেয়ে যেন বেশি উঁচু থাকে। যদি দক্ষিণ এবং পশ্চিমের দেওয়াল উঁচু করা সম্ভব না হয় তবে যেন দেওয়ালটিকে তুলনামূলকভাবে একটু মোটা করে তৈরি করা হয়।
সীমানা প্রাচীরের দ্বার : সীমানা প্রাচীরের দরজা নির্ভর করছে জমিটি কোন মূখী তার ওপরে। সীমানা প্রাচীরের দরজা কীভাবে তৈরি করতে হবে সে সম্বন্ধেও প্রামাণিক সূত্রগুলি প্রাচীন বাস'শাস্ত্রে বলা আছে। নীচে একটি তালিকার সাহায্যে এ বিষয়ে জানানো হল। |
| |
১। |
পূর্বমুখী জমি- উত্তর-পূর্বদিকের পূর্বে করতে হবে। |
২। |
পশ্চিম মুখী জমি - উত্তর-পশ্চিমের পশ্চিম দিকে করতে হবে। |
৩। |
উত্তরমূখী জমি- উত্তর-পূর্বের উত্তর দিকে। |
৪। |
দক্ষিণমূখী জমি- দক্ষিণ-পূর্বের দক্ষিণ দিকে। |
|
| |
| সীমানা প্রাচীরের দরজা যে দিকগুলিতে করা কোনও মতেই উচিত নয় তারও একটি তালিকা দেওয়া হল। |
| |
১। |
দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পূর্ব দিকে। |
২। |
দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের পশ্চিম দিকে। |
৩। |
উত্তর-পশ্চিম দিকের উত্তর দিকে। |
৪। |
দক্ষিণ দিকের মাঝখানে। |
|
| |
|