বৃক্ষ, বন বাগান
 

গৃহ সন্নিকটস্থ বৃক্ষ:

যে বাড়িতে বসবাস করা হয় সেই বাড়িতে বৃক্ষ লাগানো উচিৎ নয়। কারণ বড় গাছ বসালে শিকড় বাড়ির ক্ষতি করে। আর বড় গাছ বেশি পরিমানে কার্বর ডাই-অক্সাইড ছাড়ে বলে তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সে কারণে বাড়ির সংলগ্ন কোন বাগান করার জায়গা থাকলে সেখানে বৃক্ষ লাগানো যেতে পারে। নীচে কোন গাছ শুভ বা অশুভ তার তালিকা দেওয়া হল। বসত বাড়িতে বড় গাছ না লাগিয়ে ছোট গাছ বাহারি বড় পাতা ওয়ালা গাছ লাগানো উপকারী। এগুলি ক্ষতিকারক সূর্যরশ্মি, চৌম্বকীয় তরঙ্গ ও মহাজাগতিক রশ্মিকে শোষণ করতে পারে।

 
দিক্‌
শুভ
অশুভ
পূর্ব বট অশ্বত্থ, আম, জাম, কলা প্রভৃতি ফলবতী গাছ।
পশ্চিম অশ্বত্থ আম, কলা বট, ক্যাথ
উত্তর ক্যাথ, পাকুড় কলা, ডুমুর
দক্ষিণ গোলাপ, ডুমুর আম, ক্যাথ
দক্ষিণ-পূর্ব বেদানা, ডালিম বট, অশ্বত্থ, কাঁটাযুক্ত যে-কোন গাছ, শিমুল, পাকুড়, গাছের পাতা-ছাল থেকে দুধ বার হয় এরকম গাছ, আকন্দ, মহুয়া প্রভৃতি।
দক্ষিণ-পশ্চিম তেতুল কদম্ব
উত্তর-পূর্ব আমলকী কলা
উত্তর-পশ্চিম বেল কাঁটাযুক্ত গাছপালা
 

অশ্বত্থঃ সর্ববৃক্ষনাম: ভারতের ও বাংলাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীরা অশ্বত্থ, ডুমুর, বট, পাকুড় ও আমকে পঞ্চবৃক্ষের মধ্যে গণ্য করা হয়। তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে এর মধ্যে অশ্বত্থের স্থান সর্বশীর্ষে। অশ্বত্থ গাছ কাটলে বংশ হানি হয়। তবে হোম-যজ্ঞের মতো পবিত্র কাজের জন্য অশ্বত্থ গাছের কাঠ কাটলে কোনও দোষ হয় না, বরং অক্ষয় স্বর্গ লাভ হয়। অশ্বত্থ বৃক্ষ পুজো করলে সকল দেবতার পুজো করা হয়। (মুসলমান মাত্রই পূজার কোন প্রশ্নই আসে না।)

গাছপালার অলৌকিক ক্ষমতা: ইসলামিক জ্যোতিষশাস্ত্রে ২৭ টি নক্ষত্র, ১২টি ঘর ও ৯টি গ্রহ আছে। এরাই সম্পুর্ণ জ্যোতিষ সিদ্ধান্তকে পরিচালনা করে। তার মধ্যে ওই ৯টি গ্রহ হলো গুরুত্বপুর্ণ। যখন তাদের অমঙ্গলকর বলে গণ্য করা হয় এবং তার ফলও অমঙ্গলজনক। এই অমঙ্গলকর ফল ও পরিসি'তি এড়াতে জরুরি প্রতিকার ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহরত্ন ধারণ, তন্ত্র ও মন্ত্র উচ্চারণ, দান-ধ্যান ইত্যাদি তো আছেই এবং এই সঙ্গে কয়েক ধরনের ভেষজ, তণ্ডুল জাতীয় পদার্থ ও গাছের বীজ দিয়ে গোসল করার বিধিও বলা হয়েছে।

গাছপালা একদিকে যেমন আমাদের সামাজিক জীবনের অংশ তেমনই আমাদের আচার অনুষ্ঠানেরও অঙ্গ। আর শুধু জীবনের অঙ্গই নয়, মানুষের জীবনে গ্রহের কুপ্রভাব কমিয়ে দিতে পারে, অমঙ্গল থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে মঙ্গলময় ও সুখী করতে পারে এই গাছপালা।

 
বাস্তুমতে বাগানঃ
 

মুসলমান বিজ্ঞজনেরা ও পবিত্র কোরআন শরীফে গাছপালা রোপনের কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়মের প্রচলন করেছিলেন। তাঁদের মতে বাড়িঘরের চারদিকে বিভিন্ন রকমের গাছপালা লাগানো উচিত। শাস্ত্রমতে বাগানের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে বলা হয়েছে যে বাড়ি তৈরির আগে জমিতে বাগান তৈরি করা উচিত। এর দ্বারা জমির সরসতার সম্বন্ধে আন্দাজ করা যায়।

শাস্ত্রীয় মতে ‘বিল্ব’ বা বেলগাছ লাগালে সেই বাড়িতে পুরুষানুক্রমে ধনসম্পদে পরিপূর্ণ থাকে। কেউ যদি ফুল ও ফলের গাছ লাগায় তা হলে তার সুফল সে লাভ করে। বাস্তুশাস্ত্রানুসারে বাসসাথনের কাছে বাগান তৈরি করা উচিত। এই বাগান তৈরি করতে হবে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে। বাগানের ফুলগাছ হবে ফুলে ভর্তি এবং গাছপালা ও লতানো গাছ দিয়ে বাগান সাজানো থাকবে। বাগানের মধ্যে জলাশয় বা সরোবর থাকলে আরও ভাল হয়। মানুষের শরীরে রক্ত যেমন চলাচল করে তেমনই বাগানে ফোয়ারা বা ঝর্ণা রচনা করলেই হবে না তাতে পানির চলাচল করা প্রয়োজন। তবেই এই সৌন্দর্য বাস্তু মতে সমৃদ্ধি লাভ করে। এই সব জলাশয় বা সরোবরে যদি মাছ ইত্যাদি পালন করা যায় তা হলে তা হবে আকর্ষক। অফিস, বাড়িঘর, বহুতল ভবন, হাউসিং কমপ্লেক্স, হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, স্কুল ও কলেজ ভবনে ও তার চারপাশে বাগান করলে তার সবুজায়ন যেমন নয়নাভিরাম হয় তেমনই কাজের পরিবেশ তৈরি করতে গাছপালা বাগান সাহায্য করে।

ভাবতে অবাক লাগলেও এ কথা সত্যি যে, বৃক্ষ আয়ুর্বেদে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি রক্‌ গার্ডেন ও গুহা, কৃত্রিম বনজঙ্গল-গাছপালা ইত্যাদি লাগানোর কথা বলা হয়েছে। এই রক্‌ গার্ডেন বাগান দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে করতে হবে। তুলসী ও অন্যান্য ক্ষুদ্র বনৌষধি গাছগাছড়া উত্তর-পূর্ব দিকে লাগাতে হবে। যে সব গাছে বড় বড় পাতা হয় সেগুলি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে লাগানো যেতে পারে। ফলের গাছ লাগাতে হবে এই দুই দিকের মাঝামাঝি।

 
 
Warning: Any unauthorised use or reproduction of rajeshshori.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes
    copyright infringement liable to legal action.